কৃষকদের নিয়ে ভারতের ‘‌ঋণমন্ত্রী’‌ নির্মলা সীতারামন কী বলেন, শুনতে কান পেতে ছিলাম আমরা। পাশে বসেছিলেন ‘‌রাষ্ট্রমন্ত্রী’‌, সম্ভবত হিন্দি অনুবাদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অনুরাগ ঠাকুর। কৃষকেরা এই দেশটাকে দঁাড় করিয়ে রেখেছেন, তঁাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল ও ফসলে খাদ্যভাণ্ডার উপচে পড়ছে। এবার লকডাউনের ধাক্কায় খেতের ফল–‌সবজি পুরোটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে, বাজারে নিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনাই সরকারের ছিল না বলে। সেই কৃষকেরা ক্ষতিপূরণ আশা করেছিলেন, অন্যায় কোনও দাবি নয়। যঁারা ফসল কেটেছেন, তঁারা বাজারে নিয়ে গিয়ে বেচতে পারেননি, কারণ সরকার কিছুই ভাবেনি। অন্তত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সেই ফসল সরকার এখন কিনে নেবে, এমন দাবিও কিছু অন্যায় নয়। তাছাড়া এই ফসল উৎপাদন করতে কৃষকেরা কিসান ক্রেডিট কার্ডে ঋণ নিয়েছিলেন, সেই ঋণের সুদ পরিশোধে ছাড় দেওয়ার দাবিও অন্যায্য নয়। কারণ সরকারই ফসল কিনছে না, এর দায় কৃষকের নয়। তাছাড়া গোটা পৃথিবীতে ডিজেলের দাম নেমে গিয়েছে, অন্তত দেশের কৃষি উৎপাদনকে চাঙ্গা রাখতে কৃষকদের সস্তায় ডিজেল দিতেই পারত সরকার। এরপর বীজ কেনার জন্য ভর্তুকি দেওয়া উচিত ছিল। এর বদলে ‘‌ঋণমন্ত্রী’‌ কী বললেন?‌ বললেন, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির ২০০০ টাকা সব কৃষকের আমানতে দেওয়া হচ্ছে। ‘‌হচ্ছে’‌ নয়, হয়েছে। এপ্রিলেই দেওয়া হয়েছে, এবং সেটি বাজেটেই ঘোষণা হয়েছিল। তা–‌ও মাত্র ৬ কোটি কৃষক টাকা পেয়েছেন, ১৪ কোটি পাননি। পরের ঘোষণা:‌ ‘‌কিসান ক্রেডিট কার্ডের ঋণ মাছচাষি, পশুপালকরাও পাবেন।’‌ বেশ। কিন্তু এই ঘোষণা তো বাজেটেই করেছিলেন নির্মলা, তাই না!‌ এবার বললেন নাবার্ড ঋণ দেবে গ্রামীণ সমবায়কে। তাহলে কৃষকের লাভ কোথায় হল?‌ ১ লক্ষ কোটির তহবিল ঘোষণা করে দিলেন ঋণমন্ত্রী, নিজে পুরোটা বলেন না, পরে এক সচিব জানালেন, নাবার্ড এই তহবিল গড়বে, বাজার থেকে টাকা তুলে!‌ কবে?‌ কীভাবে?‌ নির্মলা নিরুত্তর। নিজেরই বাজেট থেকে ‘‌ঋণ’‌ নিয়ে যঁাকে ফলাও করে নানা ঘোষণা করতে হয়, তঁার কাছে এর থেকে বেশি আশা করাও মুশকিল।

জনপ্রিয়

Back To Top