পাগড়ি অত্যন্ত সুদৃশ্য শিরোভূষণ। পাগড়ি–‌পরিহিত শিখদের আমরা চিরকালই পছন্দ করে এসেছি। বহু শিখ শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আছেন কলকাতায়, অন্য শহরে। ভালবেসে ওঁদের আমরা ডাকি ‘‌সর্দারজি’‌। রাজ্যের মানুষদের সঙ্গে ওঁরা মিলেমিশে থাকেন। দুটো উদাহরণ মনে পড়ছে। বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সুবীর সেন তখন মুম্বইয়ে। সবে নাম করেছেন। ‘‌দিল মেরে এক আশকা পাঞ্ছি’‌ সুপারহিট হবে কিছুদিন পরে। একদিন বাসে উঠছেন, রূঢ় কন্ডাক্টর গেটে আটকে দিলেন পা দিয়ে। কোনওরকমে উঠে দঁাড়ালেন। এক যুবক তীব্র প্রতিবাদ করলেন, কেন এমন জঘন্য ব্যবহার?‌ হেল্পার, কন্ডাক্টর রড নিয়ে মারতে এলেন। ওই যুবক লড়ে গেলেন। তঁার দাপটে গুটিয়ে যেতে হল আক্রমণকারীদের। সুবীর সেন বললেন, ‘‌ধন্যবাদ, একজন মুম্বইনিবাসী শিখ হয়েও যেভাবে আমাকে বঁাচালেন, ভাবতে পারছি না।’‌ যুবকটি বলেন, ‘‌কী বলছেন দাদা!‌ আমি ভবানীপুরের ছেলে। কম বাঙালি নাকি?‌’‌ নামফলকে বাংলার দাবিতে যখন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজপথে পরপর মিছিল, একজন সবার আগে, মাথায় পাগড়ি। আমাদের চেয়ে কম বঙ্গপ্রেমী নয়। বিজেপি–‌র নবান্ন অভিযানে বলবিন্দর সিং ছিলেন পিস্তল হাতে। এক উঠতি নেতার দেহরক্ষী (‌কত হাজার নেতার কত হাজার দেহরক্ষী, কে জানে!‌)‌। পুলিশ ধরবে না?‌ পালাতে চেষ্টা করেন বলবিন্দর। ছবি প্রকাশিত, পুলিশ খুলে দেয়নি, পালাতে গিয়ে যখন পড়ে যাচ্ছেন, খুলে গেছে। তবু অপপ্রচার। কিছু না জেনেই টুইট করে দিলেন হরভজন সিং। জলঘোলা করেছেন রাজ্যপাল। ব্যাপারটা নাকি তঁাকে জালিয়ানওয়ালা বাগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বাচাল। কলকাতায় বাঙালি–‌পাঞ্জাবি ঐক্য মঞ্চ সমাবেশ করে ভাগাভাগির জঘন্য রাজনীতির প্রতিবাদ করেছে। হ্যাঁ, এভাবেই আমরা মিলেমিশে আছি। ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top