প্রত্যেকবার কালীপুজোর আগে উৎকণ্ঠা প্রকাশিত হয়, শব্দবাজির দাপট কি আরও বাড়বে?‌ সরকার সতর্ক থাকতে চায়, পরিবেশকর্মীরা বলে চলেন। বোঝানো হয়, শব্দ‌বাজি কত ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু, শব্দ চমকাতেই থাকে। এবার, অতিমারী পরিস্থিতিতে সব রকমের বাজিই কত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, ইতিবাচক প্রচার হয়েছে। রাজ্য সরকার সব রকমের বাজি পোড়ানো থেকে মানুষকে বিরত থাকার কথা বলেছে। পরিষ্কার বক্তব্য পেশ করেছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর, হাইকোর্টের নির্দেশ, সবরকম বাজি নিষিদ্ধ। পোড়ানো যাবে না, বিক্রিও করা যাবে না। কালীপুজো ও দেওয়ালিতে আমরা আশ্বস্ত হলাম, সতর্কবার্তায় কাজ হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বাজিও পোড়েনি। শব্দবাজি নেই, আতশবাজি নেই, মানুষ সন্তুষ্ট। পরিবেশকর্মীদের সংগঠন বলেছিল, সরকার চাইলে সব পারে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে, সক্রিয়তা থাকলে নিশ্চয় ফল পাওয়া যাবে। আশা করি, পরিবেশকর্মীরা এবার বলবেন, রাজ্য সরকার সদিচ্ছা দেখিয়েছে, সক্রিয় থেকেছে। প্রয়োজনে কড়াও হয়েছে। বিজেপি–র ‌রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন, এই বছর বাজি ফাটানো হয়তো উচিত নয়। কিন্তু, মানুষ চাপের মধ্যে আছে, উদ্বেগে আছে, যদি একটু আনন্দ করতে চায়, কী করার আছে?‌ দেখা গেল, ওই ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন মানুষ। খারাপ সময়টাকে আরও খারাপ করে দেননি মানুষ, গেরুয়া নেতার প্রশ্রয় সত্ত্বেও। তিনি বুঝতে ভুল করেছিলেন। সচেতনতার ওপর ভরসা রাখতে পারেননি। অভিনন্দন পরিবেশকর্মীদের। অভিনন্দন পুলিশ ও প্রশাসনকে। অভিনন্দন বাংলার সচেতন মানুষকে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top