এবার অন্যরকম উৎসব। দুর্গোৎসব সব ধর্ম ও বর্ণের বাঙালির প্রাণের উৎসব। কোনও কোনও বছর সমস্যা। বাংলার একাংশ বন্যাক্রান্ত। সেই হাহাকারের শব্দ কলকাতাবাসীর কানেও পৌঁছয়। আর এবার, ভাইরাস হানায় সবাই উদ্বিগ্ন। একটা দিক আমরা মনে রাখি না। কত মানুষের প্রধান উপার্জন পুজোর সময়ে। ঢাকি, মণ্ডপকর্মী, আলোর শিল্পী, কারিগর, প্রতিমা শিল্পী তাকিয়ে থাকেন এই কয়েকটা দিনের দিকে। সঙ্কটের সময়ে আর্থিক সমস্যা প্রবল। এই শারদীয় উপার্জনটাও বাদ গেলে কী করে চলবে সংশ্লিষ্ট মানুষের। দুর্গোৎসব মানে পরিজন ও ঘনিষ্ঠদের পোশাক উপহার দেওয়া। যার যতটা সাধ্য। বস্ত্রবিপণিতে ভিড় থাকে। বহু মানুষের আয় শাড়ি, পোশাক–‌শিল্পে। বাংলা সিনেমার, নাটকের, সঙ্গীতের শিল্পী ও সহযোগীদের কাছে এই একটা মাস গুরুত্বপূর্ণ। যঁাদের সাধ্য আছে সোনার দোকানেও ঢুঁ মারেন। খাওয়াদাওয়ার আয়োজন ঘিরেও অনেক কিছু। এই তিন–‌চার সপ্তাহে সব মিলিয়ে অন্তত ৮০ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। সব স্তরের মানুষের উপকার। পুজো মানে শুধু আড়ম্বর নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের আর্থিক যোগদান, অর্থনীতির উপকার। এবার কম। হয়তো কারও কারও ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি। তবু উৎসব। ফেলে দেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, উৎসব হোক, সঙ্গে থাক সতর্কতা। চিকিৎসকরা ভয় পাচ্ছেন, সঙ্গত আশঙ্কা, ভিড় এবং মেলামেশার জন্য পুজোর পরে সংক্রমণ অনেক বাড়তে পারে। রাজ্য সরকার বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রশাসন সজাগ, যেন সমস্যা কোনওভাবেই সঙ্কটে পরিণত না হয়। দায়িত্ব আমাদেরও। এই সময়ে কী করা যাবে না, স্পষ্ট। কী করা যেতেও পারে, কিন্তু সতর্ক থেকে, বলা হচ্ছে। সতর্ক থাকুন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top