বিপদের সময়ে, ঘোর বিপদের সময়ে, অভূতপূর্ব দুর্যোগের সময়ে একটা দেশ কী করে?‌ অন্তত যা করে না, তা হল উৎসব। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ডাক দিয়েছিলেন ১৪ ঘণ্টা লকডাউনের। সেই ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই, বিকেল ৫টায় সকলে যেন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তালি বা থালি বাজান, ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য। দেশের নানা জায়গায়, ভয়ঙ্কর অত্যুৎসাহীরা রাস্তাতে নেমে কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে মিছিল করেন। তারপর ২১ দিনের লকডাউন। চেষ্টা চলছিল। অধিকাংশ মানুষ মেনেছেন। এর মধ্যে, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, ৫ এপ্রিল যেন রাত ৯টা থেকে ৯ মিনিট বাড়ির আলো নেভান, ৯টা বেজে ৯ মিনিটে দরজা বা বারান্দাতে এসে মোমবাতি বা প্রদীপ বা টর্চ বা মোবাইল ফ্ল্যাশলাইট জ্বালান। অনেকে করলেন, অনেকে করলেন না। যাঁরা করলেন, স্রেফ বাতি নিভিয়ে ৯ মিনিট পর বাতি জ্বালিয়ে থেমে গেলেন না। মুখে আঙুল পুরে সিটি বাজালেন মহান নাগরিকরা। আতশবাজি। ফানুস। দেদার শব্দবাজি। ভারতের অসংখ্য শহরে। কলকাতায় কঠোর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে শতাধিক লোককে। শুধু বাজি ফাটিয়ে শেষ হল না। পথে মিছিলের উৎসব। টায়ার জ্বালিয়ে অবাধ উৎসব। যখন বাজি ফাটতে শুরু করল, টেলিভিশন চ্যানেলে এক বিজেপি নেতা বললেন, যে করেছে অন্যায় করেছে। তৃণমূল কর্মীরা শব্দবাজি ফাটিয়ে বিজেপি–র বদনাম করে থাকতে পারে। বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পরিষ্কার করে দিলেন। বললেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর ডাকের সমালোচনা করেছিল, তাদের বাজি ফাটিয়ে জবাব দেওয়া হল!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top