৩ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তা। দেশবাসীর প্রত্যাশা, বিপদের দিনে ভরসা রাখার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সুরাহার কথা বলবেন। ভিনরাজ্যে কাজ–করা শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর সতর্কতা রেখে, ব্যবস্থা করবেন। হয়তো বিপর্যস্ত মানুষের জন্য কোনও বড় প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। একটু স্বস্তি। প্রত্যাশা ছিল, স্বল্প সঞ্চয়ে সুদ কমানোর ঘোষণা প্রত্যাহৃত হবে। না। কোনও স্বস্তি নেই। অভূতপূর্ব অতিমারী থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর জন্য, চিকিৎসার জন্য কী করা হবে, তার নিশ্চয়তা দেবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল ছাড়া কেউ কথা বলছেন না। বাস্তবে তিনিও জানাননি, কী কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, কী কী করা হবে। মাস্ক নেই। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা বারবার বলছেন, চাই মাস্ক, চাই পিপিই, চাই ন্যূনতম ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর বিচিত্র ভাষণে উল্লেখ নেই। প্রত্যক্ষভাবে লড়তে হচ্ছে রাজ্য সরকারগুলোকে, কিন্তু রাজ্যকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা নেই। বকেয়া টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না, কী করে কাজ করবে রাজ্য, তার কোনও দিশা নেই দেশচালকের বহুলপ্রচারিত ভাষণে। আছে শুধু নয়। ৯। রামনবমীর শেষ পর্বে ভিডিও বার্তা। নয়। তারিখ, ৯ এপ্রিল। ‘‌নয়’‌। বললেন ৯ মিনিট। ‘‌নয়’‌। ৫ এপ্রিল রাত ৯টায় সব আলো নিভিয়ে, মোমবাতি বা প্রদীপ বা টর্চ বা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে একসঙ্গে থাকার বার্তা ভারতের ১৩০ কোটি মানুষকে। তালি–থালি–ঘণ্টা থেকে বেরিয়ে ‘‌অকাল দিওয়ালি’‌।‌ কতক্ষণ?‌ ৯ মিনিট। ‘‌নয়’‌। নয়ের খেলা। প্যাকেজ নয়, সুরাহা নয়, রাজ্যগুলোকে সহায়তা নয়, সাধারণ মানুষকে রিলিফ নয়, প্রবীণদের স্থায়ী আমানতে সুদ কমানোর ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার নয়। শুধু ৯। এটা নিশ্চয় পথ ‘‌নয়’।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top