বাংলায় প্রথম দফায় ভোট হয়েছে মাত্র দুটি আসনে। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার। তৃণমূল থেকে বিতাড়িত নিশীথ প্রামাণিক কোচবিহারে বিজেপি প্রার্থী। ভোটপর্ব শেষ হতেই তিনি জেলাশাসক তথা রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে ঢুকে ধর্নায় বসে পড়লেন। বললেন, ভোট ঠিকমতো হয়নি। অধিকাংশ বুথে পুনর্নির্বাচন করতে হবে। দরজা বন্ধ করে দেওয়ায় কুনাট্য বেশি প্রচার করা যায়নি। দু’‌মিনিট সময় পেয়েই যা বললেন, মনে হল, সব বুথ লুঠ হয়ে গিয়েছে, তাঁকে, তাঁর দলকে ভোট করতেই দেওয়া হয়নি। কার্যত গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি। এদিকে, কলকাতায় রাজ্যের মুখ্যনির্বাচনী অফিসারের দপ্তরে হইহই করে হাজির বিজেপি নেতারা। বললেন, প্রথম দফায় ভোটে অনেক ফাঁক, বিস্তর গন্ডগোল, সুতরাং রিপোল চাইছি। চাওয়া নয়, হুঙ্কার। প্রার্থী বলেছিলেন, কার্যত সব বুথে রিপোল চাই। নেতাদের মধ্যে কেউ বলছেন, ভোট লুঠ হয়েছে ৭০ বুথে, কেউ বলছেন ৩০০, কেউ আবার ৫০০! এখনও পর্যন্ত বিজেপি–‌র জন্য ভাল খবর নেই। হাতেগোনা কয়েকটা কেন্দ্রেও রিপোল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে, দু–‌চারটি বুথে গোলমাল হয়েছে, ধস্তাধস্তি ইত্যাদি, কিন্তু বড় কিছুর নামগন্ধ নেই। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থীর গাড়ির কাচ ভেঙেছে, সে ছবি অবশ্য দুটি কাগজে দেখা গেল। সেই সূত্রেই কলকাতার বাম নেতারা বললেন, ভোটই হয়নি। বিজেপি–‌তে ফিরি। ৩০০–‌৫০০–‌৭০০ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি, তার মানে তো এই যে শাসক দল ভোটই করতে দেয়নি। তাহলে আর ভাল ফল হবে কী করে?‌ কিন্তু বিজেপি নেতাই বলছেন, কোচবিহারে আমরা জিতব!‌ মানে কী?‌ এত গন্ডগোল, এত লুঠ, তবু জিতবেন?‌ ব্যাপারটা যা দাঁড়াল, প্রথম দফা নিয়ে আলগা অভিযোগ করে হারের কৈফিয়ত সাজিয়ে রাখা?‌ নাকি, পরের দফাগুলোয় নির্বাচন কমিশন ও আধিকারিকদের চাপে রাখার চেষ্টা?‌ এভাবে কিছু হয়?‌

জনপ্রিয়

Back To Top