ভারতের চন্দ্রযানের ‘‌বিক্রম’‌–‌এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল চাঁদ থেকে মাত্র ২.‌১ কিলোমিটার দূরে। অরবিটার ছবি পাঠাল, বিক্রম–কে পাওয়া যাচ্ছে। চেষ্টা, ‘‌প্রজ্ঞান’‌–‌কে বের করার। ইসরো, কুর্নিশ। অভিযান শুরুর সময় ৭ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য। তবু, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর ভোর রাত ১টা ৫৫ মিনিটেই নামবে বিক্রম, ঘোষণা করা হয়। গোটা যাত্রাপথ গেছেও ঠিকমতো। যোগাযোগ কেন বিচ্ছিন্ন হল, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তাহলে কি অভিযান ব্যর্থ?‌ না। এটা একটা প্রক্রিয়া। স্বাধীনতার পর, প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর উৎসাহেই শুরু হয়েছিল মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা। পথিকৃৎ বিক্রম সারাভাই বিশ্ববন্দিত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অবহেলা করেনি ভারত। আশা করি, ইসরোর বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতের সাফল্যের রসদ পাবেন। এবারও কিছু তথ্য পাবেন। তাঁদের মেধা ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন নেই। মাত্র ৯৫০ কোটি টাকায় এত বড় একটা অভিযান করা হচ্ছে, মুগ্ধ ছিলেন পৃথিবীর বড় মহাকাশবিজ্ঞানীরা। প্রায় সফল অভিযান, ‘‌ব্যর্থ’‌ বলে চিহ্নিত করব না। প্রশ্ন অন্য জায়গায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, দেশের শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই চন্দ্র অভিযান নিয়ে এত প্রচার। জোর দিয়েছেন ‘‌প্রচার’‌–‌এ। একদম ঠিক। এর আগেও ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সাফল্য পেয়েছেন, কোনও সরকার ঢাকঢোল নিয়ে নামেনি। গত লোকসভা ভোটের ঠিক আগে, এ–‌স্যাট উপগ্রহ দিয়ে মহাকাশে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার পরীক্ষায় সফল হন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। চেয়ারম্যান নয়, কোনও বিজ্ঞানী নয়, ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। আগে কিছুই ছিল না, তিনি এসেই করে দিচ্ছেন, ‘‌মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’‌। উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার, নিজের ও দলের প্রচারই লক্ষ্য। আপত্তিটা সেখানেই। বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আমরা আছি, থাকব।‌

জনপ্রিয়

Back To Top