এমনিতেই রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি–‌র অবস্থা সুবিধের নয়। অন্তত মহারাষ্ট্র নিয়ে মাথাব্যথা একটু কমই ছিল। একদিকে কংগ্রেস–‌এনসিপি মজবুত জোট, আসন রফার কাজও প্রায় শেষ। তার ওপর, শরিক শিবসেনা আলাদা লড়তে চাইছে। প্রায় প্রতিদিন মুখপত্র ‘‌সামনা’‌য় থাকছে মোদি সরকার ও বিজেপি–‌কে তীব্র আক্রমণ। এ সবেরই মধ্যে এসে পড়ল নতুন ঝামেলা। সংরক্ষণ নিয়ে আন্দোলন। হিমশিম খাচ্ছে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার। মহারাষ্ট্রে বিজেপি–‌র অবিসংবাদিত এক নম্বর নীতিন গাডকারি, কেন্দ্রেও ক্ষমতাবান। সংরক্ষণ আন্দোলন প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করলেন, তাতে প্রবল অস্বস্তিতে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এর আগেও অস্বস্তিতে ফেলে বলেছিলেন, ‘‌অচ্ছে দিন কথাটা সরকার তথা দলের গলায় কঁাটার মতো বিঁধে গেছে। কথাটা আমাকে বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী!‌’‌ এবার সংরক্ষণ নিয়ে বললেন, ‘‌আন্দোলন করে কী হবে?‌ চাকরিতে সংরক্ষণের জন্য আন্দোলন করার কী মানে হয়?‌ চাকরি কই?‌ তথ্যপ্রযুক্তির প্রাধান্যে ব্যাঙ্কে চাকরি কমে গেছে। সরকারি চাকরিও নেই বললেই চলে। চাকরিই না থাকলে কীসের সংরক্ষণ!‌’‌ গুরুত্বপূর্ণ নেতার মন্তব্যে বিপাকে অমিত শাহরা। এ কথাও বলা সম্ভব হচ্ছে না যে, এটা গাডকারির ব্যক্তিগত মত, দলের নয়। গাডকারি এতটাই শক্তিমান। ভুল কিছু বলেননি, আমরা সবাই জানি। বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদি, ৪ লাখও হয়নি। বেকার তরুণদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। ভোটে টের পেতে হবে। কিন্তু, প্রশ্ন হল, খঁাটি সত্যি কথাটা বললেন কেন প্রথম সারির নেতা ও মন্ত্রী?‌ বিজেপি–‌র অন্দরমহলেই আলোচনা, ২০১৯ লোকসভা ভোটে যদি ভাল ফলও হয়, নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা থাকবে না। নতুন সঙ্গী খুঁজতে হবে। মোদি ছাড়া অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী, এমন কথাও উঠবে। নিজের ইটটা কি পেতে রাখছেন গাডকারি?‌ জেটলি নয়, কারণ তিনি একে অসুস্থ, তার ওপর মোদি–‌ঘনিষ্ঠ। সুষমা স্বরাজ যোগ্য, কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ নন তিনিও। পাশাপাশি, আরএসএস নেতৃত্বের পছন্দের নেতা গাডকারি। লড়াইটা শুরু করে দিলেন মহারাষ্ট্রের পরাক্রান্ত নেতা?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top