বন্ধুত্বের গল্প সাহিত্যে অনেক আছে, বাস্তবেও। তবে, এমন আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, দুই বড় দেশের প্রধানের বন্ধুত্ব বিরল। আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের নরেন্দ্র মোদি। সাধারণ কূটনৈতিক মিত্রতার স্তর ছাড়িয়ে ওঁদের বন্ধুত্ব জ্বলজ্বল করছে। সংশয় হতে পারে। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‌ভারতকে বলছি, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দিন। না দিলে, ফল ভুগতে হবে!‌’‌ নির্জলা হুমকি। এমনিতে অবশ্য বন্ধুত্ব প্রবল। ভারতে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি গেলেন আমেরিকায়। প্রবাসী ভারতীয়দের, দেশে–‌থাকা আত্মীয়স্বজনদের টানার জন্য আয়োজিত হল ‘‌হাউডি মোদি’।‌ দুজন দুজনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ট্রাম্পের ভাষণে অঢেল মোদি স্তুতি। এবং মোদিজি, প্রধানমন্ত্রী, অন্য দেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বক্তৃতাই দিলেন। বললেন, সামনের বারও ট্রাম্প সরকার। এক দেশের নির্বাচনে অন্য দেশের রাজনীতিকের (সরকারের প্রধান তো দূরের কথা) অংশগ্রহণের উদাহরণ আর পাওয়া যাবে না। ট্রাম্প চান মোদিকে, মোদি চান ট্রাম্পকে। বিশ্বে ততদিনে কোভিড হামলা শুরু হয়ে গেছে, আমেদাবাদে ‘‌কেমছে ট্রাম্প’‌। বস্তি ঢেকে, ট্রাম্পকে স্টেডিয়ামে আনা হল। ট্রাম্প মুগ্ধ, মোদি খুশি। মিল অনেক। দুজনই চরম দক্ষিণপন্থী। ভেজাল নেই। দুজনই সংখ্যালঘু–‌বিদ্বেষী। সেখানেও খাদ নেই। দুজনই কার্যত একনায়কতন্ত্রী, তফাত নেই। মোদি ২৩ মার্চ বলেছিলেন, অতিমারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ২১ দিনে শেষ হবে। কত ২১ দিন চলে গেল। ট্রাম্প বলেছিলেন, কিছুই হবে না। সংক্রমণে মৃত্যু ২ লক্ষ। দুজনই সাংবাদিকদের শত্রু। একজন সামনা–‌সামনি কটূক্তি করেন। অন্যজন সাংবাদিক বৈঠকই করেন না। ঘনঘোর বন্ধুত্ব।

জনপ্রিয়

Back To Top