বাংলার অগ্রগণ্য বাচিক শিল্পীদের একজন। তিনি পরিচিত মর্যাদাব্যঞ্জক আচরণের জন্যও। বহুদিন ধরে বাঙালি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। শ্রদ্ধা পেয়েছেন। এটা নিশ্চয় তাঁর ত্রুটি হতে পারে না। তাহলে, তাঁর ‘‌অপরাধ’‌ কী?‌ কেন সোশ্যাল (আনসোশ্যাল)‌ মিডিয়ায় তাঁকে কুৎসিত আক্রমণ করা হল?‌ বেদনাহত শিল্পী কেন আইনের পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন?‌ যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ফেসবুকে বার্তা দিয়েছিলেন। বা, শেয়ার করেছিলেন। বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের সাহসী লড়াই দেখে তিনি মুগ্ধ। তারুণ্যের মহৎ স্পর্ধাকে তিনি সেলাম জানাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তনী ঊর্মিমালা। আন্তরিক সমর্থন, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার করেননি। তবু, তাঁকে কদর্য আক্রমণ করল তারা, যারা ১৯ সেপ্টেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্র সংসদ অফিসে ভেঙেছিল কম্পিউটার, চেয়ার–‌টেবিল, সিলিং ফ্যান। আগুন দিয়েছিল বইপত্রে, সাইকেলে। কলা বিভাগের কমনরুমে হানা দেয়, শিক্ষক, ছাত্ররা দরজা বন্ধ করেন, আলো নিভিয়ে বসে থাকেন। গেরুয়া গুন্ডারা বাথরুমের কল ভাঙে। ইউনিয়ন রুমের দেওয়ালে ছিল চে গুয়েভারার ছবি, রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠের ছবি। গুন্ডারা রং লেপে দেয়, লেখে— এবিভিপি। বাইরেও রাস্তা জুড়ে আগুন, অশান্তি, অবরোধ। ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে বাধা দেওয়া উচিত হয়েছে কি না, প্রশ্ন উঠেছে, উঠতেই পারে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা কুৎসিত কোনও স্লোগান দেননি। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদকে সমর্থন জানানোর অধিকার নেই ঊর্মিমালার, কারও?‌ স্বামী জগন্নাথ বসু বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী, বেতারে নাটকেও বিখ্যাত। বেদনা ফুটেছে তাঁর কথায়। শিল্পী বাবুলকে যাঁরা চিনতেন, জানতেন মিষ্টি স্বভাবের তরুণ হিসেবেই, জগন্নাথ–‌ঊর্মিমালার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ভাল। সেই তিনি, কুৎসিত (‌যা ছাপা যায় না)‌ মিমের নিন্দা করলেও, বলেছেন, ঊর্মিমালাদি, আপনি ধর্মান্ধ। আপনার ধর্ম বাম–‌ধর্ম। জন্মান্ধ নন, তবু কিছু দেখতে পেলেন না?‌ .‌.‌.‌ বামপন্থী হওয়া ‘‌অপরাধ’‌? প্রাক্তনী হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের সাহসকে কুর্নিশ জানানো ‘‌অপরাধ’‌?‌‌   ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top