মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ায় বেহালা কার্যত বিছিন্ন, বিপর্যস্ত। প্রশাসন নানা ভাবে চেষ্টা করছে যাতে বিকল্প পথ তৈরি করে মানুষকে খানিকটা জরুরি পরিষেবা দেওয়া যায়। উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তার থেকেও বেশি প্রশংসনীয়, বিকল্প পরিষেবার কথা ভাবতে প্রশাসন বেশি সময় নেয়নি। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরপরই বেহালার মানুষের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনায় বসে গেছে। সাধারণত এই ধরনের অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনায় সবদিকে বিচার করতে সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে লাগেনি। বেহালার মানুষ শত কষ্টের মধ্যেও অন্তত এইটুকু বুঝেছেন, পাশে প্রশাসন আছে। তবে ব্রিজ ভাঙার ঘটনা একটা বড় সত্য সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিস্তীর্ণ বেহালা একটি মাত্র যোগাযোগ সংযোগকারী পথের ওপর কতটাই না নির্ভরশীল ছিল!‌ চিরকালই বেহালার সঙ্গে মূল কলকাতার যোগাযোগের উপায় দুর্বল। বেহালা পূর্ব–‌পশ্চিম ধরে লাখ দশেক মানুষের বাস। ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, মোমিনপুরের দিকটা হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা যে কতটা বেড়ে যাবে, তার ঠিক নেই। প্রতিদিন শহর ছড়িয়ে পড়ছে। অপরিসর বেহালাতেও ফ্ল্যাটের পর ফ্ল্যাট হচ্ছে। মানুষের বসবাস বাড়ছে। গাড়ি বাড়ছে। কিন্তু পৌঁছনোর পথ বাড়ছে না। চলাচলের পথ বাড়ছে না। যোগাযোগের উপায় বাড়ছে না। একসময়ে রসিকতা করে বলা হত, ‘‌বেহালা ‌সব জায়গা থেকেই দূরে’‌‌। সেই রসিকতা রয়েই গেছে। বেহালার জন্য না হয়েছে কোনও বাইপাস, না হয়েছে কোনও ফ্লাইওভার, না করা গেছে চওড়া রাস্তা। মেট্রোর কাজ চলছে বছরের পর বছর। ফলে সেখানকার পথের অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়েছে। শুধু মাঝেরহাট ব্রিজ ভাঙার কারণে নয়, বেহালার মানুষকে চিরকালই কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। অথচ বেহালায় কত বড় বড় মানুষের বাস। তাঁদের যাতায়াত ততটাই জরুরি। কিন্তু উপায় নেই। আমাদের আশা এবং বিশ্বাস বেহালার বেহাল পথ নিয়ে সরকার পরিকল্পনা করবে। মেট্রো যাতে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে তার জন্য কেন্দ্রকে চাপ দেবে। বেহালার মানু্ষ স্বস্তি পাবেন।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top