এখনকার শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা স্কুলে ঠিকমতো ক্লাস নেন না, এখনকার শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা লেখাপড়া শেখানোর দায়িত্ব ছেড়ে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে মেতে থাকেন, এখনকার শিক্ষক–‌শিক্ষিকাদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্ক তিক্ত, এখনকার শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে মারেন, এখনকার শিক্ষক–‌শিক্ষিকারা শুধু প্রাইভেট টিউশন নিয়ে ব্যস্ত। অনেক মানুষই এই মত পোষণ করে। এর পিছনে বেশিরভাগ সময়েই যে তথ্য বা যুক্তি আছে এমন নয়। সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন খবর থেকেই সাধারণ মানুষের এই ধারণা তৈরি হয়েছে। আবার একথাও মানতে হবে, অভিযোগ পুরোটাই অমূলক বা মিথ্যে নয়। নানা কারণে ছাত্র–‌শিক্ষক সম্পর্কে আজ চিড় ধরেছে। সমাজের সর্বস্তরের অবক্ষয় শিক্ষক পেশাকেও ছেড়ে কথা বলছে না। শিক্ষকরাও যেমন মূল্যবোধকে হারাচ্ছে, ছাত্ররাও তাই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিভাবকদের একাংশ। যে কোনও অবস্থায় শিক্ষক–‌শিক্ষিকাকে অপমান করতে তারা খড়্গহস্ত। কয়েকজনের অধৈর্য, অসৎ, অশিক্ষকসুলভ আচরণের জন্য গোটা শিক্ষকসমাজকে তারা কাঠগড়ায় তুলছে। শিক্ষক–‌শিক্ষিকাদের যথার্থ মূল্যায়নের কোনও ব্যবস্থা থাকলে ‘‌শাসন’–‌এর‌ দায়িত্ব এভাবে বাইরের কাউকে নিজের হাতে তুলে নিতে হত না। কিন্তু সব এরকম নয়। সম্প্রতি হাওড়া জেলা স্কুলের ঘটনা তাই প্রমাণ করেছে। প্রধান শিক্ষক শুভজিৎ দত্ত বদলি হচ্ছেন শুনে ছাত্ররা দরজা আটকে দঁাড়িয়েছে, কেঁদে ভাসিয়েছে। অভিভাবকরা ছুটে এসেছে। প্রধান শিক্ষক সবাইকে বুঝিয়ে তবে বিদায় নিতে পেরেছেন। মাত্র দেড় বছরে এত ছেলের শ্রদ্ধা, ভালবাসা, চোখের জল পাওয়া সহজ কথা নয়। শুভজিৎ দত্তদের মতো শিক্ষক আছেন বলেই আজও বুক ফুলিয়ে বলা যায়, কে বলে শিক্ষক–‌ছাত্রের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে?‌ কে বলে শিক্ষকরা দায়িত্ব ভুলে গেছেন?‌ তাঁকে কুর্নিশ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top