কেরলের বন্যাদুর্গতদের দিকে বিস্কুটের প্যাকেট ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিয়েছেন কর্ণাটকের মন্ত্রী মহোদয় এইচ ডি রেভন্না। সে ছবি কাগজে, টিভিতে গোটা দেশ দেখেছে। মন্ত্রী মহোদয় গিয়েছিলেন এক ত্রাণশিবিরে। এই ছবি দেখে অনেকেই ছিছি করে উঠেছেন। অসহায় মানুষের প্রতি এ কী আচরণ! অসহায় কেন, কোনও মানুষের সঙ্গেই কি এই ব্যবহার করা যায়?‌ কয়েক হাত দূরে থাকা ছোটদের দিকে মন্ত্রী বিস্কুট ছুঁড়ে দিলেন কোন স্পর্ধায়?‌ ভদ্রতা, শিক্ষা, শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিন্দুকেরা। বলেছেন, একজন মন্ত্রী যদি এই কাজ করেন, আর পঁাচজন কী করবেন? কোনও কিছু ছুঁড়ে দেওয়ার মধ্যে অবজ্ঞা থাকে। করুণার ভাব থাকে। মানুষকে নিচু চোখে দেখার চেষ্টা থাকে। পথেঘাটে‌ এভাবে বিস্কুট ছুঁড়ে দেওয়া হয় কাদের?‌ মন্ত্রী অন্যায় করেছেন। কথাটা ঠিক নয়। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বিস্কুট ছুঁড়ে দিয়ে ঠিকই করেছেন। ছোঁড়া মোটেই খারাপ কোনও সহবত নয়। ছোঁড়াছুঁড়িতে কত বড় কাজ হয়েছে, তার ঠিক নেই। অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। সেই মহাভারতের সময় থেকে যুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র ছোঁড়াছুঁড়ি চলেছে। সত্যের জয় হয়েছে। ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জলে ডুবন্ত মানু্্ষের দিকে লাইফ সেভিং বেল্ট ছঁুড়ে তাঁকে বঁাচাতে হয়। পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া অভিযাত্রী রক্ষা পান ছুঁড়ে দেওয়া দড়ি ধরে। ক্রিকেট খেলার সময়ে বল ছঁুড়ে আউট না করলে দেশের টিমই তো হেরে যাবে। বন্যার কথাতেই যদি যাই, ছুঁড়তে তখন হবেই। হেলিকপ্টার থেকে জলে ডোবা দুর্গতদের দিকে তো ত্রাণের জিনিস ছুঁড়েই দিতে হয়। উদ্ধারের জন্য ছুঁড়েই তো নামাতে হয় দড়ির মই। রেভন্না সাহেব অন্যায়টা কী করছেন?‌ শুধু একটা কথা কি উনি জানেন?‌ সাধারণ মানুষ কিন্তু অভদ্র জনপ্রতিনিধিকে অতি অনায়াসে ছুঁড়ে ফেলতে জানেন।

জনপ্রিয়

Back To Top