‌লকডাউনে স্বাভাবিকভাবেই লোকাল ট্রেন চলা বন্ধ হয়ে গেল। কয়েকটা চলত রেলকর্মীদের জন্য। কিন্তু, নানা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায়, ব্যবসায় লক্ষ লক্ষ যে–‌কর্মীরা কলকাতায় যাতায়াত করেন, তঁারা কী করবেন?‌ যখন সব দপ্তর খুলে গেল, সব সংস্থা কাজ করতে শুরু করল, কর্মীদের তো আসতে হবে। কী করবেন?‌ বাসে যাতায়াত। সহজ কথা নয়। প্রথমত, প্রচুর সময় লাগে। একাধিক বাস ধরেও আসতে হয়। বাড়তি চার ঘণ্টা যদি পথেই থাকতে হয়, স্বাভাবিক জীবন চলা সম্ভব?‌ বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে একদম সকালেই, ফিরতে ফিরতে রাত, দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। নিরুপায় কিছু যাত্রী রেলকর্মীদের জন্য বিশেষ ট্রেনে জোর করে উঠলেন। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন যাচ্ছে চলে, ক্ষোভ স্বাভাবিক। সেই ট্রেনগুলোয় অস্বাভাবিক ভিড় হল, রেলকর্মীরাও অস্বস্তিতে পড়লেন। শুধু সময় নয়, অনেক বাড়তি টাকা খরচ। যঁার দশ টাকা খরচ ছিল, তঁার যদি তিরিশ টাকা খরচ হয়, সমস্যা তো হবেই। কোনও কোনও স্টেশনে ক্ষোভ, বাইরে অবরোধ। সংবাদমাধ্যমে সমস্যার কথা উঠে এল। সচিত্র প্রতিবেদন। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ার পরে, রেল ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চালু হল লোকাল ট্রেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অনুরোধ করলেন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হোক, যাতে ভিড় কমে, দূরত্ববিধি কিছুটা মেনে চলা সম্ভব হয়। কেন লোকাল নেই, সংবাদমাধ্যমে প্রবল প্রচার। যখন শুরু হল, তখন সমান প্রবল প্রচার, কী ভিড় কী ভিড়, অতিমারী ছড়ানো কেউ আটকাতে পারবে না। ১০০ শতাংশ লোকাল চালালেও ভিড় থাকে, থাকবে। না চললে মুশকিল, চললেও মুশকিল‌। এ তো জানা কথা। উভয়সঙ্কট। কিছুটা ভারসাম্য রাখার চেষ্টাকে স্বাগত।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top