নির্বাচন কমিশন ‘‌নির্দেশ’‌ দিয়েছে, সেনাবাহিনীর কৃতিত্বকে নিজেদের প্রচারে কাজে লাগাতে পারবেন না কেউ। জানি না নির্দেশের মানে কী, নরেন্দ্র মোদি–‌অমিত শাহ সেই কাজটাই করে চলেছেন, দিনের পর দিন, সভার পর সভায়। সেজন্য একটা ধমকও খেতে হয়নি, সতর্কবার্তাও নয়। যঁারা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থেকে দেশের সেবা করেছেন, সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করেছেন, তেমন ১৫৬ জন প্রাক্তন সেনাকর্তা কড়া চিঠি দিয়েছেন মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে, যিনি পদাধিকার বলে সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার। প্রাক্তন বিশিষ্ট সেনাকর্তারা লিখেছেন, সেনাবাহিনীর সাফল্যকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা অন্যায়। সৈনিকরা ৭২ বছর ধরেই অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায়, প্রাণ তুচ্ছ করে বরাবরই লড়াই করেছেন, দেশকে সুরক্ষিত রেখেছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বে বদল হতে পারে, তাতে বাহিনীর ভূমিকা পাল্টায় না। কখনও যা হয়নি, এবার তা হচ্ছে। হস্তক্ষেপ করুন মাননীয় রাষ্ট্রপতি তথা সুপ্রিম কমান্ডার। সেনাকর্তারা আহত, ক্ষুব্ধ। চান, বাহিনীর সাফল্যকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার বন্ধ হোক। তবে, এ সবে কিছু এসে যায় না মোদির। তঁার গলার আওয়াজ বেড়েই চলেছে, যেন যুদ্ধক্ষেত্রে তিনিই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। সেনাকর্তাদের স্পষ্ট চিঠিতে বিব্রত বিজেপি কী করল?‌ প্রথম, রটিয়ে দেওয়া হল, আসলে অনেকেই চিঠিতে সই করেননি, তঁাদের অমতে নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ১৫৬–‌এর মধ্যে মাত্র তিনজন বলছেন, তঁারা স্বাক্ষর করেননি, তবে বক্তব্যের সঙ্গে একমত!‌ সুবিধে হল কিছু, মোদি মহোদয়?‌ দ্বিতীয়, এ কথাও বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে, মাননীয় রাষ্ট্রপতি এরকম কোনও চিঠি এখনও পাননি। প্রাক্তন সেনাকর্তারা জানেন না, কীভাবে কোন ঠিকানায় চিঠি পাঠাতে হয়?‌ রাষ্ট্রপতির দপ্তরও বা নীরব কেন?‌ একটা বিবৃতি তো আসার কথা যে, সুপ্রিম কমান্ডার চিঠি পেয়েছেন এবং বিবেচনা করছেন।‌ না, মোদির ভারতে স্বাভাবিক কিছু হতেই পারে না!‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top