নরেন্দ্র মোদিরা যত আসনই পান, তাঁর ধরনধারণ ৪০০–‌র মতো, বলা যায় ৫০০–‌র মতো। সে যা–‌ই হোক, সাধারণ নাগরিকেরও ইচ্ছা হতে পারে, ধ্যানে বসার। অন্তত সেই আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর মতো সুবিধা পান, আপনাকে কী করতে হবে?‌ কতটা তবে কষ্ট করতে হবে?‌‌ নরেন্দ্রভাই যা করেছেন, দেখা যাক। আরামপ্রদ বিশেষ বিমানে কেদারনাথ মন্দিরের কাছে নামলেন। স্পেশ্যাল ড্রেস পরে নেমেছিলেন বিমান থেকে। গেরুয়া কোমরবন্ধ। সব মিলিয়ে জমকালো। কয়েক মিটার হেঁটে গেলেন। পায়ের নীচে নরম লাল কার্পেট। মন্দিরে প্রবেশ। পূজাপাঠ। আধ ঘণ্টা অন্য কোনও ব্যক্তিকে ধারেকাছে আসতে দেওয়া হল না। তারপর মনোরম ছোট্ট এক গুহায় প্রবেশ। সুন্দর বিছানা। বালিশে ঠেস দিয়ে বসলেন। এবার ধ্যান। এই পর্যন্ত সঙ্গী ঘনিষ্ঠ চ্যানেল। সব দেখানো হল টিভি–‌তে। ছবি বেরোল কাগজে। গুহার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার সমস্ত ব্যবস্থা। অস্থায়ী পিএমও। আবার স্পেশ্যাল ড্রেস। ধ্যানরত মোদির একটা ছবি তুলে, ছড়িয়ে দিয়ে, সেদিনের মতো প্রস্থান ঘনিষ্ঠ চ্যানেল প্রতিনিধিদের। সারা রাত নাকি ধ্যান করেছেন। ঘুম?‌ বিশ্রাম?‌ প্রশ্নই ওঠে না। সারা রাত নাকি জেগে থাকলেন। ধ্যান। ভাল। প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। যখন ভোট চলছে, প্রচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, তখন তাঁর মন্দিরদর্শন, ধ্যান ইত্যাদির প্রচার হল কেন?‌ প্রচার করতে দেওয়া হল কেন?‌ নির্বাচন কমিশন অনুমতি দিয়েছে। কারণ, সরকারি কাজে গিয়েছেন। কেদারনাথ উন্নয়ন নিয়ে দশ মিনিটের বৈঠক। কোনও প্রধানমন্ত্রী, কোনও মুখ্যমন্ত্রী, কোনও মন্ত্রী এই সময় সরকারি বৈঠক করতে পারেন?‌ কেউ করেছেন?‌ কখনও। নরেন্দ্র মোদিরা যতই আসন পান, নির্বাচন কমিশন যে তাঁর একশোভাগ দাসত্ব করেছে, সংশয় থাকল না।

জনপ্রিয়

Back To Top