রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে এলেন আলাপন ব্যানার্জি। জেলাশাসক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছেন। কর্মজীবনে ক্রমশ উচ্চতর এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করে প্রভূত সুনাম পেয়েছেন। শিল্প অধিকর্তা, পুর কমিশনার, বিভিন্ন দপ্তরের সচিব হিসেবে অপরিহার্য থেকেছেন। স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে মুখ্যসচিব হওয়া বিরল নয়। আলাপন সেই পদে আসায় আমাদের ভাল লাগার অনেক কারণ আছে। গত ৬ মাস ধরে অতিমারীর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে সরকারের যুদ্ধ সবাই দেখছেন। এই লড়াইয়ে দুরন্ত কাজ করেছেন বিদায়ী স্বরাষ্ট্রসচিব। কখনও বেশি দুর্গত জেলায় গেছেন বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে, কখনও কলকাতা ও উপকণ্ঠে প্রবীণদের পাশে দঁাড়ানোর পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে। রামকৃষ্ণ মিশনের মেধাবী ছাত্র। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকার উপরের দিকে। কর্মজীবন শুরু সাংবাদিক হিসেবে। সেই কাজেও সফল হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তারপর, আইএএস। দীর্ঘ যাত্রায় মেধা ও পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট থেকেছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তঁার শিকড়ের টান মুগ্ধ করে। বাঙালিত্ব নিয়ে গর্বিত। এত ব্যস্ততার মধ্যেও নানা বিষয়ে তঁার পড়াশোনার খবর যঁারা রাখেন, তঁারা জানেন, এমন তন্নিষ্ঠ পাঠক বিরল। প্রাবন্ধিক হিসেবে উজ্জ্বল। ‘‌বাঙালির সকাল সন্ধ্যা’‌ এবং ‘‌আমলার মন’‌ অবশ্যপাঠ্য। তঁার ভাষায় একইসঙ্গে গভীরতা ও স্বাদুতা। গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে আলাপনের লেখাটি পড়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। সবাই করবেন। এমন একজন মানুষ রাজ্যের মুখ্যসচিব হলেন। আমাদের ভাল–‌লাগা সীমাহীন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top