তিনি বলতে ভালবাসেন, তবে শুধু জনসভায়। ও হ্যাঁ, কখনও কখনও সংসদীয় দলের সভায়। একতরফা। পৌনে চার বছর হয়ে গেল তাঁর ক্ষমতায় থাকার, এখনও পর্যন্ত একটাও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। তাহলে তো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ধাতে নেই। সংসদে আসেন কম, বলেন কদাচিৎ। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিতর্কে সংসদের দুই কক্ষেই বল‌লেন। বিরোধীরা খানিক হইচই করলেও, গলার জোরে চালিয়ে গেছেন। একবার একটু থমকে যেতে হল। নরেন্দ্র মোদির একটা কথা শুনে অট্টহাস্যে ভেঙে পড়লেন কং সাংসদ রেণুকা চৌধুরি।  প্রধানমন্ত্রী ফুট কাটেন, ‘‌হাসতে দিন, অনেক দিন পর রামায়ণ সিরিয়ালের কথা মনে পড়ে গেল!‌’‌ বক্তব্য পরিষ্কার করে দিলেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু:‌ শূর্পণখার কথা মনে পড়ছে প্রধানমন্ত্রীর। তিনি ফেসবুকে রামায়ণ সিরিয়ালে শূর্পণখার হাসির অংশটিও তুলে দিলেন। রেণুকা ক্ষুব্ধ, কংগ্রেস মুখর। কী বলেছিলেন মোদিজি, যা শুনে অট্টহাসি?‌ বলেন, আধার প্রকল্পের কথা প্রথম ভেবেছিল এনডিএ–‌ই, বাজপেয়ী–‌আদবানির সময়ে। অট্টহাস্য!‌ সবাই জানেন, ইউপিএ জমানায় মনমোহন সিংয়ের উদ্যোগে আধার প্রকল্পের ভাবনা ও রূপায়ণের দায়িত্বে ছিলেন নন্দন নিলেকানি। দেশের সব নাগরিকের জন্য নিখুঁত পরিচয়পত্র তৈরি করাই ছিল উদ্দেশ্য। পরে, এই জমানায় ‘‌আধার’‌–‌কে চোখ রাঙানোর, ব্যক্তিগত তথ্য বার করার হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা হল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীজি আরও একটা কথা বলেন। কংগ্রেসের অধিকাংশই নাকি বল্লভভাই প্যাটেলকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছিলেন। তবু নেহরু গদিতে বসেন, এই তো ওঁদের গণতন্ত্র। সমালোচকরাও জানেন ও মানেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরু ছাড়া আর কারও নাম ওঠার প্রশ্নই ছিল না। এমন গপ্পো মোদি শোনাতে পারেন। তিনিই পারেন।     ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top