সুসংবাদ। ফুসফুস ক্যান্সারে অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছনো এক রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বঁাচালেন চিকিৎসক। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অঙ্কোলজির বিভাগের সাফল্যে বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই মুখ উজ্জ্বল। গর্ব অনুভব করতে হয় আমাদের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য। সংবাদে প্রকাশ, বাগনানের বাসিন্দা সোমা দলুই ফুসফুসে বিরল ক্যান্সার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। শরীরে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ক্যান্সার এই পর্যায়ে পৌঁছলে সাধারণত হাল ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের মেডিক্যাল অঙ্কোলোজি বিভাগের প্রধান ডাঃ শিবাশিস ভট্টাচার্য এগিয়ে আসেন। তিনি নির্দিষ্ট একটি ওষুধ (‌ক্রিজোটিনিব)‌ প্রয়োগ করতে শুরু করেন। ওষুধ কাজ করতে শুরু করে। তিনমাস ওষুধ চালালে, রোগী অর্ধেক সেরে ওঠেন। চিকিৎসক আরও তিনমাস ওষুধ ব্যবহার করেন। রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোগীর একটি বিশেষ ধরনের ক্যান্সার হয়েছিল। সেটি জানার পরই নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সংবাদে প্রকাশ, এই ওষুধের দাম খুবই বেশি। দরিদ্র রোগীর পক্ষে খরচ সামলানো অসম্ভব। চিকিৎসক সরকারি দপ্তরে তদ্বির করে সেই খরচ জোগাড় করেন। সাহায্য করেন হাসপাতালের সুপারও। রোগীকে বঁাচিয়ে তোলা হয়। কোনও সন্দেহ নেই এ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যারা অভিযোগ করে, সরকারি হাসপাতাল মানে অবহেলা আর উদাসীনতা, তারা এই সংবাদ জেনে নিশ্চয় লজ্জিত হবে। রোগীর বিশেষ ধরনের ক্যান্সার হয়েছিল বলেই নির্দিষ্ট ওষুধ কাজ করেছে। তার জন্য লেগেছে ধৈর্য। লেগেছে অর্থ সংস্থানের উদ্যম। এভাবে একজন সাধারণ মানুষকে বঁাচিয়ে তোলা শুধু চিকিৎসা নয়, মানবিকতাও। অভিনন্দন।

জনপ্রিয়

Back To Top