ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষে পদার্পণ নিশ্চয় বড় ঘটনা। ৩০ বছর আগেই শতবর্ষ উদযাপন করেছে মোহনবাগান। তখনও আবেগ ছিল, উদ্দীপনা ছিল, কর্মকর্তারা চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। একই কথা প্রযোজ্য ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের ক্ষেত্রে। ১ আগস্ট নেতাজি ইনডোরে বিরাট অনুষ্ঠান। জীবনকৃতি পুরস্কার দেওয়া হবে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ভাস্কর গাঙ্গুলিকে। সেরা কোচ পি কে ব্যানার্জি। সেরা অধিনায়ক সুধীর কর্মকার। আসছেন কপিলদেবও। ২৮ জুলাই কুমোরটুলি পার্ক, ক্লাবের আঁতুড়ঘর থেকে বর্ণাঢ্য মিছিলে দেখা গেল সুকুমার সমাজপতি–‌সহ বিশিষ্ট প্রাক্তনদের। ক্লাব তাঁবুতে মশাল নিলেন সুভাষ ভৌমিক ও বাইচুং ভুটিয়া। সবচেয়ে বেশি ছিল, সদস্য–‌সমর্থকদের আবেগ। শহরের পথ ছেয়ে গিয়েছিল লাল–‌হলুদে। কিন্তু সমস্যার দিকটা এত বড়, এমন দিনেও আবেগে ভেসে যাওয়া মুশকিল। আইএসএল গ্রাস করতে চাইছে কলকাতার তথা দেশের জনপ্রিয়তম দুই ক্লাবকে। ধ্বংস করতেই চাইছে। বিপুল অর্থে নিয়ে যাচ্ছে বাছাই ফুটবলারদের। লগ্নি বিশাল, এখনও তল পাননি। কিন্তু ওদের আশা, আই লিগ কার্যত থাকবে না, ইস্টবেঙ্গল–‌মোহনবাগান থাকবে না, জনপ্রিয় ক্লাবের অনুপস্থিতিতে ওদের ব্যবসা জমবে। এআইএফএফ নির্ভরশীল। কী করে বাঁচবে মোহনবাগান–‌ইস্টবেঙ্গল (‌এবং মহমেডান)‌?‌ আই লিগে ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর যাঁরা, তাঁরা ফুটবল টিম চালান, নির্বাচিত কর্তাদের চেপে রেখেছেন। শতবর্ষের মিছিলের দিন উপস্থিত থাকেননি কোচ বা কোনও বর্তমান ফুটবলার। স্পনসর, আসলে মালিকদের নির্দেশ। টুটু বসু মোহনবাগানের জন্য যা করেছেন ভালবাসা থেকে, বিরল। তবু মোহনবাগানও দুশ্চিন্তায়। শুধু সমর্থকদের বিশুদ্ধ আবেগ দিয়ে কি শতবর্ষপ্রাচীন দুই ক্লাবকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে। শুনি, বিদেশেও দুই ক্লাবের অনেক সমর্থক। তাঁদের মধ্যে যাঁরা বিত্তশালী, তাঁরা এগিয়ে আসবেন?‌ লক্ষণ নেই। আবেগ ভাল, সেটা যথেষ্ট নয়।

জনপ্রিয়

Back To Top