সংবিধানের ৮০ ধারার ৩ উপধারা বলছে, রাজ্যসভার মনোনীত সদস্যকে সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা সমাজসেবার উৎকর্ষ দেখেই বেছে নিতে হবে। মহামান্য রঞ্জন গগৈ প্রথম তিনটি ক্ষেত্রের মানুষ নন, তাঁর সমাজসেবা সম্পর্কে আমরা অন্তত কিছু শুনিনি। এখন ‘‌পুরস্কৃত’‌ হয়েই তিনি বলেছেন, জাতি গড়ার জন্য আইনসভা ও বিচার বিভাগকে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা তো উল্টোটাই জানতাম। এতদিন জেনেছি দেশ গড়তে স্বাধীনতা চাই বিচার বিভাগের। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভটি সরকারি দপ্তরের মতো কাজ করতে যাবে কেন?‌ আইনের পাঠ বলছে, আমলারা কাজ করেন গোপনে, বিচার বিভাগ কাজ করে প্রকাশ্যে। সেই বিচার বিভাগে ‘‌মুখবন্ধ’‌ খামের প্রচলন কেন করেছিলেন গগৈ?‌ কেন অবিশ্বাস্য দ্রুততায় অযোধ্যা মামলার শুনানি হল, কেনই বা শনিবার আদালত বসিয়ে রায় দিতে হল?‌ সরকার তেমনটাই চাইছিল বলে?‌ নিজের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ, সেই মামলার নিষ্পত্তি করলেন নিজেই এজলাসে বসে!‌ ভাবা যায়!‌ মহামান্য রঞ্জন গগৈ, ২০১৮ সালে অভূতপূর্ব সাংবাদিক সম্মেলনে আপনিই বিচারপতি লোয়ার কথা তুলেছিলেন, তাই আপনার কাছে এটা প্রত্যাশা করেননি চেলমেশ্বর, লোকুর, কুরিয়েনরা। ওঁরা হতাশ, আমরাও। এনআরসি নিয়ে রায় দেওয়ার পর দৈনন্দিন কাজের তদারকিও আপনি করলেন, তদুপরি বিদেশিদের ফেরত পাঠানো নিয়ে মন্তব্যও জুড়ে দিলেন। বিচার বিভাগে কেমন যেন রাজনীতির গন্ধ এসে গেল। আইনি পথেই রায় দিলেও মানুষ সন্দেহ করছিল, রাজ্যসভায় মনোননয়ন স্বীকার করে সেই সন্দেহেই কি সিলমোহর দিলেন না?‌ সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হল না, আপনারও হল না, রাজ্যসভারও হবে না। এর কি দরকার ছিল?‌ ভোটে দাঁড়িয়ে জিতে এলে বলার কিছু ছিল না, অবসরের ৭ বছর পর যেমন রঙ্গনাথ মিশ্র করেছিলেন। সুব্বারাও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লড়েছিলেন, অবসরের দীর্ঘদিন পর হিদায়েতুল্লা উপরাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, তা–‌ও জনতা পার্টির আমলে। বিচারপতি লোঢা বিজেপি–‌র টিকিটে দু’‌বার জিতেছেন লোকসভায়, কেউ আপত্তি তোলেনি। আপনি কিন্তু খারাপ নজির গড়ে গেলেন সদাশিবমেরই মতো।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top