সন্দেহ নেই পাকিস্তান আর্মি ও মৌলবাদীদের মদতে প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন ইমরান খান। আগের ভোটে ৭ কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সব আসনেই হেরেছিলেন তেহরিক–‌ই–‌ইনসাফ দলের প্রতিষ্ঠাতা–‌নেতা। শুরু থেকেই দুটি কথা জোর দিয়ে বলতেন। এক, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবেন ক্ষমতায় এলে। দুই, দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটের অবসান ঘটাতে লড়ে যাবেন। কতটা কী পেরেছেন, আমাদের জানা নেই। আমেরিকা আর্থিক সাহায্যের হাত গুটিয়ে নেওয়ায় সঙ্কট হয়তো আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে পুলওয়ামা দুষ্কাণ্ড, যাতে প্রাণ হারালেন সিআরপিএফ–‌এর ৪০ জওয়ান। দায় নিয়েছে জৈশ–‌ই–‌মহম্মদ। নিজেদের সাফল্য হিসেবেই প্রচার। অনেক ফাঁক–‌ত্রুটি ছিল ভারত সরকারের দিক থেকে। কিন্তু, সন্দেহ নেই যে, জঙ্গি হামলা সেই জৈশ–‌এর, যাদের নেতা মাসুদ আজহারকে আগলে রেখেছে পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশি তো স্বীকারই করলেন, কুখ্যাত মাসুদ আজহার পাকিস্তানে আছে। ১২ দিন পর ১২ যুদ্ধজাহাজ সীমান্তের ৮০ কিলোমিটার ভিতরে বোমাবর্ষণ করে এল। দাবি, জৈশ ঘাঁটি চূর্ণ, নিহত ৩৫০ জঙ্গি। ইমরানের মুখে আমরা শান্তির কথাই শুনে গেলাম। হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক চাপ ছিল। হ্যাঁ, ভারতের সামরিক শক্তি অনেক বেশি। হ্যাঁ, যুদ্ধ চালাতে গেলে পাকিস্তানের আর্থিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে। তবু, জটিল পরিস্থিতির সামনে শান্ত থাকার বার্তা দিতে পেরেছেন ইমরান। উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দ্রুত করেছেন। আগের পাক কর্ণধারদের মতো যুদ্ধবাজ ভাবমূর্তি তুলে ধরে লোক খেপাতে চাননি। ‘‌যুদ্ধ শুরু করা মানুষের হাতে, শেষটা কবে হবে কেউ বলতে পারে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ বড় উদাহরণ। দু’‌দেশের হাতেই যা অস্ত্র আছে, যুদ্ধে কি কারও ভাল হবে?‌ আসুন, শান্তির লক্ষ্যে আলোচনা করি।’‌ ভবিষ্যতে কী করবেন, সেনা–‌মৌলবাদী চাপ সামলে কতটা শান্তিকামী থাকতে পারবেন, বলা যায় না। আপাতত বলা যায়, ফেল করেননি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top