নিরুপম সাহা, ঠাকুরনগর: বনগঁা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরের ঠাকুরনগরের বাড়ির চত্বর থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে বোমা। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যদিও শান্তনু ঠাকুর এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। গোটা ঘটনাটি তৃণমূলের চক্রান্ত বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ গাইঘাটা থানার পুলিশ শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে হানা দেয়। তঁার বাড়ির কাছেই রয়েছে কামনা সাগর। আর তারই পাশে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির ভেতর থেকে এই বোমাগুলি উদ্ধার হয়েছে। দুটি নাইলনের ব্যাগে মোট ৬টি বোমা রাখা ছিল। কী কারণে এই বোমাগুলি ওই বাড়িতে মজুত করা হয়েছিল, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে।
ঘটনার নিন্দা করে এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অভিযোগ, ‘নির্বাচনের দিন গোপালনগরের হিংলি গ্রামে তঁার নির্দেশে গাড়ি থেকে ৫টি বোমা ছোঁড়া হয়েছিল। এরপর ওই বাড়ির চত্বর থেকে বোমা উদ্ধার হল। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে ঠাকুরবাড়ির লোক হয়ে শান্তনু যে এতটা হিংস্র রাজনীতি করতে পারে, তা আমি জানতাম না। এই ধরনের কাজের জন্য ২৩ তারিখের পর তঁাকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যেতে হবে। শান্তনু আমাদের প্রার্থীর কাছে দেড় লক্ষ ভোটের ব্যবধানে হারবেন।‌’‌
অন্যদিকে, এ ব্যাপারে শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘‌বোমার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। পুলিশ যদি আমার বাড়িতে হানা দিয়ে সেখান থেকে বোমা উদ্ধার করত, তা হলে আমাকে তো একবার এ ব্যাপারে কিছু জানাত। পুলিশ আমার কাছে আসেনি কিংবা আমাকে এ ব্যাপারে ফোনও করেনি। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সব শুনে মনে হচ্ছে, গোটাটাই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের চক্রান্ত। রাজনৈতিক ময়দানে আমার সঙ্গে লড়াই করে পেরে উঠছে না বলে আমার বিরুদ্ধে পুলিশকে দিয়ে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন তিনি।’‌‌ যদিও শান্তনু ঠাকুরের এমন অভিযোগ পুরো উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। তঁার বক্তব্য, ‘‌রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। তৃণমূলের প্রতিটি কর্মী সেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। বোমা নিয়ে এমন চক্রান্ত করার সময় তঁাদের নেই।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top