‌কালো টাকা ফিরিয়ে আনার বজ্রনির্ঘোষ, ৫৬ ইঞ্চি ছাতি ফুলিয়ে প্রতিটি নাগরিকের আমানতে ১৫ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার বুকনিই ছিল তুরুপের তাস। প্রথমবার সেই আশার ছলনে ভুলেই ভারত নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছিল। তাঁর দ্বিতীয় দফার প্রথম বাজেটের মুখে অর্থনীতি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেই সঙ্গে ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে। অর্থ দপ্তরের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট কার্যত জানিয়ে দিয়েছে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার ঘোষণা অসার, অবাস্তব। কারণ কালো টাকা কাকে বলে তার কোনও স্বীকৃত পরিভাষাই যে নেই!‌ কালো টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করার মতো কোনও মাপকাঠিও নেই। যিনি যেমন ব্যাখ্যা দেবেন, কালো টাকার পরিমাণও সেই অনুপাতে বাড়বে বা কমবে। স্থায়ী কমিটির মতে, ‘‌ডিজাইনার অফ দ্য মেজারমেন্ট’‌–‌অর্থাৎ মাপকাঠির উদ্ভাবক সাপেক্ষে অঙ্কটা বদলাবে। কালো টাকাকে কেউ সমান্তরাল অর্থনীতি বলেন। রোহিংটন মিস্ত্রি যেমন বলেছেন:‌ ‘‌কালো টাকা হল আমাদের মস্তিষ্কের ঠিক মাঝখানে থাকা একটি টিউমারের মতো, যাকে কেটে ফেলতে গেলে মানুষটির মৃত্যুও অনিবার্য।’‌ অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্থায়ী কমিটির পক্ষে। তাঁদের হিসেব চমকে দেবে। রিপোর্ট বলছে ২১৬ থেকে ৪৯০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে ১৯৮০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত জমানো কালো টাকার পরিমাণ। অর্থাৎ পরিমাপে বিশাল ফারাক। পুরো পদ্ধতিটাই অনুমান ভিত্তিক। কেউ বললেন, ‘‌আমার দোকানে দৈনিক বিক্রি লাখ টাকার, আমি সেই অনুপাতে কর দেব।’‌ আয়কর বলল, ‘‌আপনার দোকানের কর্মিসংখ্যা, সাজগোজ দেখে মনে হচ্ছে পরিমাণটা অনেক বেশি।’‌ এবার শুরু হল টানাপোড়েন। কোন মাপকাঠিতে কালো টাকা প্রমাণ করা যাবে?‌ কত বছর লাগবে সেই আইনি প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ কালো টাকা ফিরিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কাহিনির ইতি। জেনে নিন, মেনে নিন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top