বুলবুল তছনছ করে দিয়ে গেল প্রধানত দুই ২৪ পরগনার কিছু অঞ্চলকে। দশ বছর আগে আয়লা যেমন করেছিল। এবার প্রাণহানি অনেকটা এড়ানো গেছে। তাতেও চার লক্ষাধিক মানুষ দুর্গত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কিছু সময় লাগবে। রাতারাতি সমস্যা চলে যাবে না। কিন্তু, আমরা দেখতে চাই, সরকার, স্থানীয় প্রশাসন কতটা সক্রিয় হল। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মমতা ব্যানার্জি। আবহাওয়া বিজ্ঞান অনেকটা উন্নত হয়েছে, দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। কথা হল, সে কথা ভেবে সরকার কী করছে। শুরু থেকেই প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের বুঝিয়ে দিয়েই বসে থাকেননি। এক, ত্রাণ। দুর্গতরা যাতে ন্যূনতম ত্রাণ অবিলম্বে পান, তার ব্যবস্থা করেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনের একেবারে একশো শতাংশ ত্রাণ পরদিনই পৌঁছে যাবে, সম্ভব নয়। যাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা নেই, উন্নত দেশেও একটু সময় লাগে। দুই, মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া। ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সরকারি আশ্রয়ে নেওয়া হল। কেউ কেউ যেতে চাননি, তাঁরা ফল ভুগেছেন। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু এড়ানো গেল, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসনের তৎপরতায়। তিন, তদারকি। পূর্ব ঘোষিত উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করেছেন। ১১ নভেম্বর আকাশপথে বিপর্যয় দেখার পর, প্রশাসনিক বৈঠক কাকদ্বীপে। মানুষের সঙ্গেও কথা বললেন, আশ্বাস দিলেন। বুধবার গেলেন বসিরহাটে, প্রত্যক্ষ তদারকি। এবং, বুলবুল ঢোকার দিন, ৯ নভেম্বর ছুটির দিনেও বিকেলে পৌঁছে গেলেন নবান্নে। প্রস্তুত, দরকারে সারারাত থাকবেন। বুলবুল আছড়ে পড়ার পর বোঝা গেল, তারপর যাচ্ছে বাংলাদেশের দিকে। সারারাত বাড়িতেই সজাগ মুখ্যমন্ত্রী। তদারকি। নেতৃত্ব।  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top