সংবাদ সংস্থা, ২৩ মার্চ- গত দু সপ্তাহে দ্রুতগতিতে করোনা–‌সংক্রমণ ছড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে। সংক্রমণ আরও ছড়ানোর ভয়ে বন্ধ রাখতে হচ্ছে ব্যবসা–‌বাণিজ্য। দৈনন্দিন সামাজিক আদান–‌প্রদানে নেমেছে অভূতপূর্ব নিয়ন্ত্রণ। এসবের জেরে চলতি বছরে পৃথিবী জুড়ে মার খাবে অর্থনীতি। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আর্থিক সংস্থা মুডিজ ইনভেস্টর সার্ভিস। ‘অস্থির সময়ে ঋণের ঝুঁকি’ শীর্ষক সাম্প্রতিক নথিতে মুডিজ জানিয়েছে, বিশেষ করে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে দারুণভাবে সঙ্কুচিত হবে বিশ্ব অর্থনীতি।
মুডিজের মতে, ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াকে কতদিনে আটকানো যাবে এবং এর দরুন আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে সামলে উঠবে ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার আবহ থাকবে বেশ কয়েক মাস। শেয়ার বাজারে এমন অস্থিরতা শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০০৮–‌এর বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়। বাণিজ্য দারুণভাবে মার খাবে আগামীদিনে, এই আশঙ্কায় সবাই ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে চাইছে। এতে ইকুইটি, পণ্য, বন্ড ও মুদ্রা, সবকিছুর দামই নতুন করে স্থির করতে হচ্ছে। সম্প্রতি চীন প্রকাশতি অর্থনীতি সংক্রান্ত তথ্যে ভোগ্যপণ্যের জন্য গ্রাহকদের খরচ কমার জেরে অর্থনীতিতে কতটা ধাক্কা লাগবে তার কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে। তা থেকেই অনুমান, গত বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের প্রথম দু মাসে খুচরো বিক্রি মার খেয়েছে দারুণভাবে (বিক্রি কমেছে ২০.৫%)। কমেছে শিল্পোৎপাদন (১৩.৫%), কমেছে স্থির সম্পদে বিনিয়োগ (২৪.৫%) এবং কর্মহীন হয়েছেন ৫০ লক্ষ মানুষ। এশিয়ার বাইরে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হচ্ছে। যেহেতু ব্যবসা–‌বাণিজ্যের চাকা থমকে গেছে, তাই খরচ কমাতে অস্থায়ী ছাঁটাই শুরু হয়েছে বড় ও ছোট কোম্পানিগুলিতে। ফলে বিশ্ব জুড়েই স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে। উন্নত ও বিকাশশীল সব ধরনের দেশেই কলকারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে প্রকৃত অর্থনীতির সব ক্ষেত্রই পঙ্গু হয়ে পড়ছে। মুডিজ জানিয়েছে, অর্থনৈতিক উৎপাদনের ক্ষতি কতটা গভীর এবং সেই ক্ষতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী, এসবের প্রভাব তো থাকবেই। তবে ক্ষতি শুধু এসব কারণেই হবে না। বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থার ব্যালান্স শিটে এই ক্ষয়ক্ষতি কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলবে, তার ওপরেও নির্ভর করবে এই পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী পরিণাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। যদি সরকার শিল্পও বাণিজ্য মহলের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে ধারাবাহিক লাভের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলি ক্ষতির বোঝা বইতে না পেরে কারখানা বন্ধ করে দেবে এবং শ্রমিকদের ছাঁটাই করবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top