পিটিআই, দিল্লি: মানছেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি মন্দার কবলেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফের এক দফা সুদের হার কমাতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটি (‌এমপিসি)‌–‌র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। তেমনটা হলে এ নিয়ে  সুদের হার কমানো হবে পর পর ছ’‌বার। তবে সুদ কমালেই অর্থনীতির হাল ফিরবে, একথা মনে করেন না দেশের আর্থিক সংস্থাগুলির বিশেষজ্ঞরা। 
গত বছর ডিসেম্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের দায়িত্ব নেন শক্তিকান্ত দাস। এরপর মোট পাঁচবার বৈঠকে বসেছে এমপিসি। প্রতিবারই কমেছে সুদের হার। ৫ দফায় কমেছে ১৩৫ পয়েন্ট। শক্তিকান্ত এর আগে জানিয়েছিলেন, বৃদ্ধির হার না বাড়া পর্যন্ত সুদের হার কমানো হবে। তাই বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এবারও সুদ কমানো হবে। ইতিমধ্যেই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ছাড় দেওয়া হয়েছে কর্পোরেট করে। তার সুফল এখনও দেখা যায়নি। জুলাই–সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমেছে ৪.৫ শতাংশে। পরের ত্রৈমাসিকেও জিডিপির বৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী নয় আর্থিক সংস্থাগুলি। মোতিলাল অসওয়াল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ নিখিল গুপ্তা বলেন, ‌‘‌চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভাল বৃদ্ধির প্রত্যাশা পূর্ণ হবে না বলেই আশঙ্কা। বিভিন্ন সূচক থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি ত্রৈমাসিকে সবচেয়ে বেহাল অবস্থা ছিল উৎসবের মাস অক্টোবরেই। ফলে, এই ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার কমে হতে পারে ৪%।  আমাদের অনুমান, সারা বছরের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৪.৫%। অথচ আগে আমাদের পূর্বাভাস ছিল ৫.৭%।’ 
বেশির ভাগ আর্থিক সংস্থার বিশেষজ্ঞের মতে, শুধুমাত্র সুদের হার কমিয়েই অর্থনীতিতে গতি আসবে না। মানুষ যাতে খরচ করতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড ইকনমিক্স, পিডব্লুসি ইন্ডিয়ার রণেন ব্যানার্জির মতে, আর্থিক নীতির মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে যে লাভ হচ্ছে না তা এখন স্পষ্ট। এখন একটা বড়সড় ধাক্কা দিয়ে গতি আনতে হবে। লোকে যাতে খরচ করতে পারে সেজন্য তাদের কাছে টাকা থাকতে হবে। এছাড়া আরবিআই সুদ কমালে তা পৌঁছোতে হবে নন ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত। তবেই লোকে কম সুদে ঋণ নিয়ে খরচ করতে পারবে। যদি জিডিপির বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নীচে নামা ঠেকাতে হয়, তাহলে গ্রামীণ ক্ষেত্রের চাহিদা বাড়াতে হবে। আইডিএফসি এএমসির অর্থনীতিবিদ সৃজিত বালসুব্রহ্মণ্যম বলেন, ‘‌গ্রাহকদের চাহিদা, ঋণের সরবরাহ, এবং ঝুঁকি নেওয়ার ইচ্ছে, সবেতেই উৎসাহের অভাব। তাই অর্থনীতির হাল দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা কম।’‌ একই আশঙ্কা আরবিএল ব্যাঙ্কের অর্থনীতিবিদ রজনী ঠাকুরের। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top