পিটিআই: ২০১৬–র নভেম্বরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিতর্কিত নোটবন্দির সিদ্ধান্ত এবং পরে জিএসটি চালু করার ফলে ভালকরম ক্ষতি হয়েছে দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের। উদ্বেগজনক এই ছবিটি সামনে এসেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক সমীক্ষায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, নোট–বাতিলের পর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সাধারণভাবে ঋণদান, বিশেষত ব্যাঙ্কঋণের পরিমাণ আরও কমেছে। অন্যদিকে জিএসটি চালু করায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণদান তেমন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। উল্টে, এই শিল্পক্ষেত্রের রপ্তানি আরও কমেছে।
‘‌মিন্ট স্ট্রিট মেমো’‌ নামে আরবিআইয়ের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‌‌নোট–বাতিল এবং জিএসটি অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের কাছে দুটো বড় ধাক্কা। উদাহরণস্বরূপ, নোট–বাতিলের জেরে পোশাক এবং রত্ন ও অলংকার–শিল্পের মালিকেরা ঠিকমতো চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারেননি। একইভাবে, জিএসটির জেরে বেশির ভাগ অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে করের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার জন্য তৈরিই ছিল না এই সব শিল্প। ফলে জিএসটি মেটাতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের খরচ বেড়েছে।’‌ 
ঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঋণ না পাওয়াটাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সামনে একটা বড় বাধা। ঋণ পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠাটাই তাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ফিনান্স কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ী, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মোট ঋণের সম্ভাব্য চাহিদা হল ২‌৫.৯০ লক্ষ কোটি টাকা। এখন এই শিল্প যত ঋণ পায় তার পরিমাণ হল ৯.৭৩ লক্ষ কোটি টাকা। ঋণের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান হল ১৬.১০ লক্ষ কোটি টাকা। 
অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণের পরিমাণ ভালরকম কমেছিল ২০১৭ সালে। আরবিআইয়ের রিপোর্টে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার জিএসটি চালু হওয়ার পর থেকে এই শিল্পক্ষেত্রের রপ্তানি দারুণভাবে মার খেয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সামগ্রিক অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাঙ্ক ঋণের বার্ষিক হার কমেছিল। ২০১৬–র নভেম্বর থেকে ২০১৭–র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই শিল্পক্ষেত্রে ঋণের হার কমতে কমতে দাঁড়িয়েছিল ঋণাত্মকে। তবে এর পর অবস্থার একটু বদল হয়। ২০১৮–র জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে এই ক্ষেত্রে ঝণদানের হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ৮.৫ শতাংশ।‌
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের গুরুত্ব খুবই বেশি। সারা দেশে এই শিল্পক্ষেত্রে মোট ইউনিটের সংখ্যা ৬ কোটি ৩০ লক্ষ। কর্মরতদের সংখ্যা ১১ কোটি ১০ লক্ষ। মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে এই সব ইউনিটের অবদান ৩০ শতাংশ। দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের ৪৫ শতাংশ এবং মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশই আসে এই ক্ষেত্র থেকে। একইসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৯৭ শতাংশই হল অসংগঠিত ক্ষেত্রের। এবং এই ক্ষেত্রের মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৪ শতাংশই তৈরি হয় অসংগঠিত ইউনিটগুলিতে। ২০০৭ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে দেওয়া মোট ঋণের মধ্যে ব্যাঙ্কঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ শতাংশ। ২০১৮–র মার্চে এই অনুপাত ক্রমশ কমে দাঁড়িয়েছিল ১৪ শতাংশে। এরই মধ্যে মাঝারি শিল্পে ঋণের শতাংশ কমেছিল সব চেয়ে বেশি। একই সময়কালে আবার বৃহৎ কর্পোরেশনগুলিকেই অতিরিক্ত ঋণ দিয়েছিল ব্যাঙ্কগুলি। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top