আজকাল ওয়েবডেস্ক:  স্বাধীনতার লড়াইয়ের পর করোনাভাইরাসের মোকাবিলাই এখনও পর্যন্ত দেশের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ জরুরি অবস্থা। এমনটাই মনে করছেন আরবিআই–এর প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। ব্লগ পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাঁর পরামর্শ, হাতে অর্থের ঘাটতি থাকলেও এই সময়ে অদরকারি খরচ যথাসম্ভব কমিয়ে গরিবদের উপর অর্থ ব্যয় করাকেই প্রাধান্য দিতে হবে সরকারকে। সেটাই ঠিক কাজ হবে। তবে আমেরিকা বা ইওরোপের মতো দরিদ্রদের জন্য জিডিপি–র উপর আরও ১০ শতাংশ বেশি খরচ করা সম্ভব নয় ভারতের পক্ষে কারণ, আগে থেকেই দেশের অর্থনৈতিক হাল খারাপ ছিল এবং সেই টালমাটাল অর্থনৈতিক দশার মধ্যেই এই সমস্যা এসে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবুও গরিবদের উপর খরচ করাকেই প্রাধান্য দিতে হবে সরকারকে কারণ লকডাউনের সময় কাজ, আশ্রয় হারিয়ে দিশাহারা হয়ে গিয়েছেন তাঁরা।
তবে শুধু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই সব কিছু কাজ পরিচালিত হতে থাকলে এই কাজে আরও বিলম্ব হতে পারে, মনে করছেন বর্তমানে শিকাগো বুথের অর্থনীতির অধ্যাপক। রাজনের মতে, রাজ্য এবং কেন্দ্রকে একজোট হয়ে সরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে গরিব এবং কম বেতনের নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য খাবার, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কখনও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু বেসরকারি উদ্যোগকেও এব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে যাতে ওই শ্রেণির মানুষদের বেতন না কাটা যায় বা তাঁদের ছাঁটাই না করা হয়। আগামী কয়েক মাসের জন্য তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে লকডাউনের পর পরিযায়ী শ্রমিকদের অসহায় পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে প্রাক্তন আরবিআই গভর্নরের আশঙ্কা এই পন্থা না নিলে সমাজের ওই শ্রেণির মানুষরা পেটের তাগিদেই লকডাউন অমান্য করে রাস্তায় নামবেন অন্নসংস্থানের খোঁজে।
রাজন কেন্দ্র এবং আরবিআই–কে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, লকডাউন পরবর্তী পর্যায়ে কর্মহীনতা মাথা চাড়া দিলেই অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। যার প্রভাব পড়বে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়। লগ্নিকারীরাও বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবেন। সেকারণেই অদরকারি খরচ কমিয়ে বা সেখানে দেরিতে ব্যয় করে অবিলম্বে যেটা জরুরি সেখানেই লক্ষ্য স্থির করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজন।

জনপ্রিয়

Back To Top