আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লকডাউনের খরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারল না দেশ। অর্থনীতি ধুঁকছে। গ্রামে যদিও বা ১০০ দিনের কাজ রুজি জোগাচ্ছে, শহরে সেই সুযোগও নেই। তাই দিন দিন শহুরে গরিবের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে।
ছ’‌ মাস আগেও এই মানুষগুলো মাস গেলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘরে আনতেন। মোটামুটি স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতেন। ছেলে–মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেন। কেউ বা পাঠাতেন বেসরকারি স্কুলে। কিন্তু ২৫ মার্চের পর সব বদলে গেছে। 
ছোটখাটো কলকারখানা বন্ধ। যাঁদের দোকান ছিল, সেখানে আর বিক্রি নেই। প্রাথমিক খরচও উঠে আসে না। অনেকে শপিং মলে কাজ করতেন বা কোনও দপ্তরে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ। দপ্তর বন্ধ। বাড়ি থেকে কাজ হচ্ছে। শপিং মলে ব্যবসা নেই বলে চলছে ছাঁটাই। 
এই মানুষগুলোর আজ দু’‌বেলা পেট ভরে খাবারও সংস্থান নেই। অপেক্ষায় থাকেন, কখন কোনও এনজিও বা বিএমসি খাবার দিয়ে যাবে। যেটুকু গয়না ছিল বা ঘরের দামি জিনিস, সেই দিয়ে সন্তানদের স্কুলের মাইনে দিচ্ছেন। বাড়ি ভাড়া বেশিরভাগেরই বকেয়া পড়ে রয়েছে। যে কোনও সময় পথে দাঁড়াতে হতে পারে। ইএমআই দিতেও পারেননি গত কয়েক মাস।
৪২ বছরের ইশাক খান একটি কাপড় কারখানায় চাকরি করতেন। মাস গেলে ১৫ হাজার টাকা পেতেন। মার্চ থেকে কাজ নেই। তার পর সবজি বেচেছেন। ফল বেচেছেন। আয় তেমন হয়নি। এখন নিজেই টুকটাক পালাজো সেলাই করে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করেন। দিনে ৩০০–৪০০ টাকার বেশি আয় হয় না। এনজিও–র খাবারই ভরসা।
মানখুর্দের সন্তোষ সাথে কলেজে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। নভি মুম্বইয়ের একটি শপিং মলে কাজ করতেন। লকডাউনের দু’‌মাস অর্ধেক বেতন পেয়েছিলেন। তার পর ছাঁটাই। এখন এদিক–ওদিক জোগারির কাজ করেন। দিনে ৫০০ টাকা পান। তবে রোজ নয়। তাঁর ভাই অটো চালাতেন। তাঁরও আয় প্রায় বন্ধ। স্ত্রী অনিতা বাড়িতে সেলাই করে কোনও মতে সংসার চালাচ্ছেন। তবে অনিতার আক্ষেপ, এখন আর মহিলারা তেমন কামিজ, ব্লাউজ বানাতে আসেন না। কোনও মতে দিন চলছে।
কান্দিভালি (‌‌পূর্ব)‌–র একটি বস্তিতে সোনার দোকান রয়েছে কিষাণ সিং রাজপুতের। এখন তাঁর জিম্মায় ৭০ লক্ষ টাকার সোনা। লকডাউনের সময় থেকে ৩০০ জন সোনা বন্ধক রেখে ধার নিয়ে গেছেন। কেউ কেউ মঙ্গলসূত্রও বন্ধক রেখেছেন। কেউ সেই টাকায় বাচ্চার স্কুলের মাইনে দিয়েছেন। কেউ চিকিৎসার খরচ। মাস গেলে এখন কোনও মতে ২ শতাংশ সুদ দেন। রজাপুতের কথায়, ‘‌ওঁরা অপারগ। ওঁদেরই রোজগার নেই। আমায় টাকা কোথা থেকে দেবে?‌’‌ 
 সন্তোষ, ইশাক, অনিতারা একা নন। এই তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে। যাঁদের এখন দু’‌বেলা খাবার পর্যন্ত জোটে না। মহারাষ্ট্রে অর্থ দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, মার্চে বেকারত্ব ছিল ৫.‌৯ শতাংশ। এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ২০.‌৯ শতাংশ। আগস্টে তা কমে হয়েছে ৬.‌২ শতাংশ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আসল ছবি পাওয়া যাবে না। কারণ বহু মানুষ নগদে বেতন পান। তাঁদের কাজের হিসেব এখানে পাওয়া যাবে না। 
অর্থনীতিবদিরা বারবার পরামর্শ দিয়েছে, মানুষের হাতে নগদ তুলে দিক কেন্দ্র। অনেকের মতে গ্রামে যেমন ১০০ দিনের কাজ রয়েছে, শহরেও এ রকম কিছু করা হোক। মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক অভয় পেঠের মতে, এক্ষেত্রে শুধু কেন্দ্রে ওপর ভরসা করলে হবে না। রাজ্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top