সৌগত চক্রবর্তী: শেষ পর্যন্ত নোভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থাবা বসাল বিনোদন জগতেও। বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক করবেন না। আবার এও জানানো হয়েছে, একসঙ্গে বহু মানুষের সমাগমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই কারণে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির সমস্ত সিনেমা হল বন্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ের মধ্যে কোনও নতুন ছবি হলে মুক্তি পাবে না।
এই অবস্থার প্রেক্ষিতে কলকাতার সিনেমা হলগুলোর অবস্থা কী?‌ প্যারাডাইস সিনেমার পক্ষে অমরবাহাদুর সিং জানালেল, আমাদের কাছে ইম্পা বা সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এরকম কোনও বিজ্ঞপ্তি আসেনি।  নবীনা সিনেমার গৌতম সাঁপুই বা প্রিয়া সিনেমার অরিজিৎ দত্তও জানালেন একই কথা। কিন্তু.‌.‌.‌। এই ‘‌কিন্তু’‌টার ওপরেই বিশেষ জোর দিলেন প্রিয়া সিনেমার কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত বা নবীনা সিনেমার ম্যানেজার গৌতম সাঁপুই। গৌতমবাবু জানালেন, যদি নতুন সর্বভারতীয় ছবিগুলোর মুক্তি আটকে যায়, তাহলে কলকাতাতেও তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। অরিজিৎ দত্ত জানালেন, এই সময়ের মধ্যেই মুক্তি পাওয়ার কথা ‘‌সূর্যবংশী’‌ ও ‘‌জেমস বন্ড’‌ ছবির। কিন্তু দিল্লিতে যদি নতুন ছবির রিলিজ আটকে যায়, তাহলে কলকাতা শুধু নয়, গোটা দেশেই এই ছবিগুলোর মুক্তি আটকে যাবে। সেক্ষেত্রে ফাঁকা হল নিয়ে কীভাবে ব্যবসা চালানো যাবে?‌ যদিও কলকাতায় মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবি নিয়ে এই আশঙ্কা থাকছে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে শুধু বাংলা ছবি নিয়ে যথেষ্ট ব্যবসা করা যাবে কি?‌ আবার গৌতম সাঁপুই জানালেন, এমনিতেই কলকাতার সিনেমা হলগুলোর অবস্থা সঙ্গিন। তার ওপর এতদিন যদি নতুন হিন্দি বা ইংরেজি ছবির মুক্তি আটকে থাকে, তবে তো কর্মচারীদের মাইনে দেওয়াও মুশকিল। অরিজিৎ দত্ত জানালেন, যদিও আমাদের কাছে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশ আসেনি তাই আমরা সিনেমা হল চালু রাখব। কিন্তু এইভাবে চললে খরচ উঠবে কি?‌ সপ্তাহে একটা কি দুটো বাংলা ছবির প্রিমিয়ার দিয়ে তো হল চলবে না। আর বাংলা ছবি বেশিরভাগই এক সপ্তাহ পরেই হল থেকে উঠে যায়। সেক্ষেত্রে কি আমাদের পুরনো ছবিই চালু রাখব?‌ কাজেই প্রশ্নটা থাকছেই। এর উত্তর কী হয় তা জানা যাবে পরে।  ‌

মুম্বইয়ের মাহিমে। একই ছবি দেশের সর্বত্র। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top