আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ২০২০ সালে মোট ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য ভারতকে আত্মনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।   
‘লোকাল কে লিয়ে ভোকাল‌’– বললেন স্ময়ং নরেন্দ্র মোদি। বিদেশের জিনিস ব্যবহার করে বিপদের সময়ে তাদের মুখাপেক্ষী না থাকার উপায় বাতলালেন প্রধানমন্ত্রী। ‘‌স্বদেশি’–এর মতো‌ বিদেশি জিনিস বর্জন করার কথা বলছেন না। তবে ধীরে ধীরে নিজেদের দেশের ছোট বড় মাঝারি সব শিল্পে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ভাষণ দিলেন তিনি। আর তাই ‌দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ‘‌আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’‌ প্যাকেজের কথা ঘোষণা করলেন নরেন্দ্র মোদি। ভাষণের শুরুতেই তিনি বললেন, ‘‌একবিংশ শতাব্দী ভারতবর্ষের’‌। আর সেই লক্ষেই পা বাড়াচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেল তাঁর আধঘণ্টার ভাষণে। 
দেশের নাগরিকদের চাহিদা ও সেই জোগানের ব্যালেন্স সঠিক জায়গায় নিয়ে আসা দরকার বলে জানালেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে ফের জাগিয়ে তুলতে নতুন এই আর্থিক প্যাকেজ। দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কাল থেকে বিস্তারিত জানাবেন এই প্যাকেজের বিষয়ে। 
এর আগে আরবিআই যে আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছিল এবং আজকের ‘‌আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’‌ প্যাকেজ, দুইয়ে মিলে এই প্যাকেজের অর্থমূল্য ২০ লক্ষ কোটি টাকা, যা দেশের গড় জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ। মোদি জানালেন, এই আর্থিক প্যাকেজ সৎ করদাতা ও মধ্যবিত্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে নয়া রূপ দিতে সাহায্য করবে বলে তাঁর ধারণা। জমি, শ্রম ও নগদ জোগানের প্যাকেজ এটি। যাঁরা এই করোনা পরিস্থিতিতে কষ্ট পেয়েছেন তাঁদের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সংগঠিত ও অসংগঠিত মানুষের জন্য এই প্যাকেজ। বোঝা যাচ্ছে, কৃষিক্ষেত্রে ও বাণিজ্যক্ষেত্রে তিনি বড়সড় কোনও পদক্ষেপ করতে চাইছেন। ‘‌যখন করোনার প্রকোপ শুরু হল তখন ভারতে একটিও পিপিই কিট বানানো হত না। আজ পরিস্থিতিই আমাদের এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে আমাদের নিজেদেরকেই সবকিছু বানাতে হচ্ছে। ২ লক্ষ এন–মাস্ক এবং ২ লক্ষ পিপিই এখন ভারতেই উৎপাদিত হচ্ছে।’‌ মোদির এই বক্তব্য থেকে আন্দাজ করা যেতে পারে, মেডিক্যাল সহায়তার জন্য অন্য দেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে ভারত এবার থেকে ওষুধের শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টায় আছে।  

জনপ্রিয়

Back To Top