আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চীনের জন্য বাণিজ্যের দরজা এখনই পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ধুঁকতে থাকা কিংবা অলাভজনক ক্ষেত্রে চীনা লগ্নিকে সহজেই ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে, জানা গেছে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র মারফত। 
গত বছর সীমান্ত সঙ্ঘাতের জেরে তলানিতে ঠেকেছিল চীন ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক। পাল্টা চীনা পণ্য বয়কট করে অর্থনৈতিক প্রত্যাঘাত হানার চেষ্টা করেছিল ভারত। ‘‌আত্মনির্ভর’ ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিল মোদি সরকার। তবে সীমান্ত নিয়ে বিবাদের আগেই ‌প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির নিয়মে বেশ কিছু বদল এনেছিল কেন্দ্র। নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, সীমান্তবর্তী দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ, চীন, পাকিস্তান, নেপাল, মায়ানমার, ভুটান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে লগ্নি করতে হলে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। অর্থাৎ কেন্দ্র সবুজ সঙ্কেত দিলেই তবে দেশে বিনিয়োগ করতে পারবে সীমান্তবর্তী দেশের সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের দাবি ছিল, চীনা বিনিয়োগ আটকাতেই ওই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র।  
কিন্তু সীমান্ত সঙ্ঘর্ষের পরও ভারত ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বৈরিতার আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততটা যে হয়নি, তা সাম্প্রতিক রিপোর্টেই স্পষ্ট। ব্লমবার্গের রিপোর্ট বলছে, গত বছরেও ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী দেশ চীনই। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হয়েছে দু’‌দেশের মধ্যে। শুধু তাই নয়, প্রচুর পরিমাণে চীনা লগ্নিও ভারতে ঢুকেছে ওই সময়ে। যদিও এই রিপোর্ট অস্বীকার করেছে কেন্দ্র। তারপরই কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেল, সঙ্কটে থাকা সংস্থায় বিশাল অঙ্কের চীনা লগ্নিতে অনায়াসেই ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে এবার থেকে। এমনকি ছোটখাটো লগ্নির ক্ষেত্রেও সহজেই মিলতে পারে কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেত। এছাড়াও এমন বাণিজ্যিক সংস্থাকেও লগ্নিতে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে, যাদের সদর দপ্তর অন্য কোথাও রয়েছে, কিন্তু অর্থ আসে হংকং থেকে। তবে সব ক্ষেত্রেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে এবং নথিপত্র যাচাই করেই লগ্নি করতে দেওয়া হবে, জানিয়েছেন ওই সরকারি আধিকারিক।

জনপ্রিয়

Back To Top