আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাজারে নগদ অর্থ ঢালেনি কেন্দ্র। চাহিদার অভাবেই দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হতে আরও বেশি সময় লেগে যাবে। ২০২২–২৩ অর্থবর্ষের আগে মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারবে না ভারত। জানাচ্ছে সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নামেই আর্থিক প্যাকেজ। রাজকোষে হাতই দেয়নি মোদি সরকার। বাজারে নগদ অর্থ ঢালার বদলে ক্রেডিট গ্যারান্টির মাধ্যমে ছোট থেকে মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজে মাত্র ২.‌১৪ লক্ষ কোটি টাকা (‌‌যা কিনা জিডিপি–র মাত্র ১.‌১%‌)‌‌ নগদ অর্থ বাজারে ঢেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে হয়ত কল–কারখানাগুলো চালু হবে। উৎপাদন বাড়লে বাজারে দ্রব্যপণ্যের জোগানও বাড়বে। কিন্তু চাহিদা বাড়বে না।‌ গরিবের হাতে নগদ অর্থ না এলে, বাজারে পণ্যের চাহিদা না বাড়লে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। চাহিদার অভাবে আরও একদফা অর্থনৈতিক মন্দা দেখবে ভারত। বলছে ওই রিপোর্ট।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারত যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তার সঙ্গে ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ব্রিটেনের সরকার ঘোষিত প্যাকেজের মিল পাওয়া যায়। উল্টোদিকে বাজারে তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ নগদ অর্থ ঢেলে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, চীন। লকডাউনে বহু মানুষ রুজিরুটি হারিয়েছেন। বেতন ছঁাটা হয়েছে বহু চাকুরিজীবী মানুষের। পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরে যাচ্ছেন নিজের নিজের রাজ্যে। সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট, মানুষের হাতে টাকা নেই এখন। গত ২০১৯–২০ অর্থবর্ষেও দেখা গিয়েছিল, বাজারে দ্রব্যপণ্যের চাহিদা কমছে। তার পরও চলতি বছরের বাজেটে গরিবের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার কোনও পদক্ষেপ করেনি মোদি সরকার। অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, রঘুরাম রাজনরা বারবার বলে এসেছেন, ভারতের অর্থনৈতিক মন্দা মূলত চাহিদার ঘাটতির কারণে। গরিবের হাতে টাকা এলেই অর্থনীতি স্থিতাবস্থা ফিরবে, বলেছিলেন তাঁরা। চাহিদার ঘাটতি ঠেকাতে না পারলে অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হবে। বলছে ওই রিপোর্ট। 

জনপ্রিয়

Back To Top