আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনার জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে অর্থনীতি। বাজারে চাকরি নেই। মানুষের আয় কমেছে। তার ফলে জিনিসের চাহিদা পড়েছে। তবে রোগের আবহে নার্স, চিকিৎসাকর্মীর চাহিদা বেড়েছে। তাই এই ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বাড়াতে চায় কেরল সরকার। 
প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও বেশি নার্স এবং চিকিৎসাকর্মী তৈরি করতে চায়। তার পর তাঁদের বিদেশে পাঠাতে চায়। তাহলেই এই নার্সরা বিদেশ থেকে আরও বেশি টাকা নিজের পরিবারকে পাঠাবে। এতে ঘুরপথে রাজ্যের আয় বাড়বে। মনে করছেন কেরলের অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক।
টমাসের কথায়, দেশ এখন বুঝতে পেরেছে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করলে তার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে। বিশেষত এই ধরনের মহামারীর আবহে। জনস্বাস্থ্যে সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করা হয়নি বলে আজ মার খাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। তিনি আরও বললেন, কেরলের নার্স এবং চিকিৎসাকর্মীদের চাহিদা গোটা দুনিয়ায় রয়েছে।
কেরলে বহু বাসিন্দা নার্সিং পড়ে বিদেশে চাকরি করতে যান। সেখান থেকে পরিবারকে টাকা পাঠান। সেই টাকাই এই রাজ্যের অর্থনীতির প্রধান ইঞ্জিন। তার জেরেই দেশে সবথেকে বেশি শিক্ষিতের হার এই রাজ্যেই। পুরুষ–মহিলার অনুপাতও এই রাজ্যের সঠিক রয়েছে। ২০১৯ সালে কেরলের প্রবাসীরা রাজ্যে থাকা নিজেদের পরিবারকে আট হাজার কোটি ডলার পাঠিয়েছে। 
বিশ্বব্যাঙ্ক বলছে, প্রবাসে বহু মানুষ এই করোনার জেরে চাকরি খুইয়েছেন। তাঁরা দেশে আর টাকা পাঠাতে পারছেন না। পারলেও আগের থেকে অনেক কম পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছেন। এই কারণেই তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর অর্থনীতিও ধাক্কা খেয়েছে। কিন্তু টমাস নিজের রাজ্যে এ রকম কিছু লক্ষ্য করেননি। বরং তিনি জানালেন, বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। তার একটা কারণ, অনেকেই প্রবাসে চাকরি খুইয়ে নিজের রাজ্যে ফিরছেন। তাঁরা সঙ্গে সমস্ত সঞ্চিত অর্থ নিয়েই ফিরছেন। ঠিক এই কারণেই কেরল সরকার নার্সির প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে। আরও আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে চাইছে রাজ্যের নার্সিং পড়ুয়াদের।  
কেরলের অর্থমন্ত্রী টমাসের কথায়, আধুনিক প্রশিক্ষণ নিয়ে এই নার্সরা বিদেশ গেলে রাজ্যের অর্থনীতি শক্ত হবে। এই নার্স, চিকিৎসাকর্মীরা পরিবারকে টাকা পাঠায়। তা প্রথমত এবং প্রধানত খরচ হয় নির্মাণশিল্পে। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো কমে গেলে রাজ্যের নির্মাণ এবং রিয়েল এস্টেট মার খাবে। নার্সিং প্রশিক্ষণ কত খরচ করছে পিনারাই বিজয়ন সরকার, তা অবশ্য জানাতে চাননি টমাস। তিনি বললেন, ‘‌চাহিদা কমে গেলে ধার করে জিনিস কেনো। তাহলেই চাহিদা বাড়বে। মন্দা কাটানোর এটাই উপায়।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top