আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির কথা বারবার বলেছেন মোদি মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কিন্তু ২০২৫ সালের মধ্যে সেই বিপুল লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া একান্তই অসম্ভব বলে মনে করছে নীতি আয়োগ। সংসদের অর্থ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে কয়েকদিনের মধ্যেই একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা রয়েছে নীতি আয়োগের। একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম সেই প্রেজেন্টেশনের একটি প্রতিলিপির উল্লেখ করে বলেছে, নীতি আয়োগের মতে ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছতে হলে জিডিপি বৃদ্ধির পরিমাণ হতে হবে ১২‌.‌৪ শতাংশ করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বর্তমান আর্থিক বর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ করে। আশঙ্কা পরের ত্রৈমাসিকে সেই বৃদ্ধির হার আরও কমে ৪.‌২ শতাংশ হবে। ফলে ১২.‌৪ শতাংশে পৌঁছানোর কোনও সম্ভবনাই নেই। ফলে ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছানোর কোনও সম্ভবনাই নেই। এই প্রেজেন্টেশনটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারের কাছে পৌঁছাবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহার সামনে এই রিপোর্টটি দেওয়ার কথা রয়েছে নীতি আয়োগের প্রধান অমিতাভ কান্থের। শেষ জুলাই মাসে বাজেট পেশ করার সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছবে দেশ। কিন্তু নীতি আয়োগের আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রাই পৌঁছানো অসম্ভব রয়ে যাবে। প্রেজেন্টেশনে নীতি আয়োগ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিনিয়োগ ও ভোগের পরিমাণ যদি না বাড়ে, তাহলে অর্থনীতি উঠে দাঁড়াতে পারবে না। আর কদিন ধরে বিনিয়োগের পরিমাণ যে কমছে, সেটা তো দেখাই যাচ্ছে। বিশেষত ক্ষতির মুখে পড়েছে রিয়েল এস্টেট সেক্টর। এছাড়াও, দেশি মার্কেটে এই মন্দার অন্যতম কারণ ব্যাঙ্কগুলির করুণ অবস্থা। বিপুল পরিমাণ এনপিএ বা নন পারফমিং অ্যাসেটের কারণে আজ ব্যাঙ্কগুলিও খোলা হাতে ঋণ দিতে পারছে না, ফলে ব্যবসায় অর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্যোগপতিদের। তার জন্যও বাজারে মন্দা কাটতেই চাইছে না।

জনপ্রিয়

Back To Top