আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। তার মধ্যে একটি হল, পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনীতি। মোদি সরকার জানিয়েছিল, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রায় কীভাবে পৌঁছনো যায়, তা নিয়ে এখনও দিশেহারা কেন্দ্রীয় সরকার। বরং চিন্তার কারণ বাড়িয়েছে রাজকোষ। চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই রাজকোষে ঘাটতি আকাশ ছুঁয়েছে। ২০১৯–২০ অর্থবর্ষের প্রথম সাতমাসে অর্থাৎ অক্টোবর মাসেই রাজকোষে ঘাটতি সাত ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঘাটতি পরিমাণ ৭.‌২‌ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার যে নথি প্রকাশ করেছে, তা থেকেই জানা গিয়েছে এই তথ্য। এই অর্থবর্ষে রাজকোষে ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল, তা এই সাত মাসেই পেরিয়ে গিয়েছে। তাহলে এই অর্থবর্ষের একেবারে শেষে এই ঘাটতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কল্পনা করেই রাতের ঘুম ছুটে গিয়েছে মোদি সরকারের। জানা গিয়েছে, চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসে সরকারের মোট খরচ হয়েছে ১৬.‌৫৫ ট্রিলিয়ন যেখানে সরকারের আয় হয়েছে ৬.‌৮৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। 
বাজেটের হিসেবনিকেশ সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। ডিসেম্বর থেকেই বাজেটের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হবে। কিন্তু চলতি বছরের বাজেটের অঙ্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজস্ব দফতরের কর্তারা মনে করছেন, আয় লক্ষ্যচ্যুত হওয়া এখন অবশ্যম্ভাবী। বাজেটে অর্থমন্ত্রী লক্ষ্য নিয়েছিলেন প্রত্যক্ষ কর আদায় গত বছরের তুলনায় ১৫.৪% বাড়ানোর। সেই তুলনায় অক্টোবর পর্যন্ত কর্পোরেট কর বাবদ আয় বৃদ্ধি মাত্র ০.৫৬%। ঝিমুনি কাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কর্পোরেট করের হার কমাতে হয়েছে অর্থ মন্ত্রককে। ফলে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লোকসান হতে পারে সেক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে আয়কর ও কর্পোরেট কর বাবদ আয় বাজেটের লক্ষ্য ১৩.৩৫ লক্ষ কোটির তুলনায় অন্তত ১.২০ লক্ষ কোটি টাকা কম হতে পারে বলে নর্থ ব্লক সূত্রের দাবি। সেক্ষেত্রে রাজকোষ ঘাটতি কী ভাবে সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্মলার লক্ষ্য, ঘাটতিকে ৩.৩ শতাংশে বেঁধে রাখা। কিন্তু মূল্যায়ন সংস্থা মুডিস আগেই জানিয়েছে, ঘাটতি ৩.৭ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলতে পারে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top