সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন: গলদ ঠিক ওই জায়গাতেই, যা লাগাতার এড়িয়ে যাচ্ছে মোদি সরকার। অর্থনৈতিক দূরদৃষ্টির অভাব। যে দিকে ইঙ্গিত করল আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং আইএমএফ–এর বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রত্যাশিতভাবেই উঠেছিল বেহাল ভারতীয় অর্থনীতির প্রসঙ্গ। সে নিয়ে আইএমএফ কর্ত্রী ক্রিস্টিলেনা জর্জিয়েভা বললেন, ভারত তার অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে দরকার দূরদৃষ্টি। দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, এমন ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। জর্জিয়েভা আইএমএফ–এর দায়িত্ব নেওয়ার পর তঁার প্রথম ভাষণেই ভারতের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে স্পষ্ট বলেছিলেন, ভারতের ব্যাঙ্ক–বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমস্যা রয়েছে। ব্যাঙ্কের জমা–খরচের খাতাও সাফ সুতরো করতে হবে। অর্থাৎ অনুৎপাদক সম্পদের যে বিরাট বোঝা, তার থেকে মুক্ত হতে হবে ব্যাঙ্কগুলোকে। আয় এবং ব্যয়ে সামঞ্জস্য আনতে হবে। এদিনও ফের সেকথা বললেন তিনি। যে এগুলো সমস্যা, যার মোকাবিলা করতেই হবে ভারতকে। ছোট ব্যাঙ্কগুলোর সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে কিছুটা রাস্তা এগোনো গেছে। কিন্তু আরও অনেক করার বাকি আছে। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়ক হবে। এটা ভারতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। তা ছাড়া, যেমন ভারতীয় মহিলারা অত্যন্ত দক্ষ কর্মী, কিন্তু তঁারা বেশিরভাগই অন্তঃপুরবাসিনী। এই মহিলাদের উৎপাদনের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করতে হবে, মূল কর্মশক্তির অংশ করতে হবে তঁাদের। বলেন ক্রিস্টিলেনা জর্জিয়েভা।  
আইএমএফ যদিও মনে করছে, এই মন্দা পরিস্থিতিতেও ভারত যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু সারা বিশ্বেই এক অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব ভারতও এড়িয়ে থাকতে পারছে না। ফলে চলতি আর্থিক বছরে ভারতের বৃদ্ধির হার ছয় শতাংশের সামান্য ওপরে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে ভারতের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী আইএমএফ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top