আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। কিন্তু রোজ দাম বাড়ছে কেন?‌ আর কেন্দ্রই বা কেন কোনও পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্নও উঠছে। কর পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন শহরের পেট্রোলের, ডিজেলের দামের হেরফের রয়েছে। কিছু রাজ্য ভ্যাট কমিয়ে দাম নিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে অবশ্য। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুল্ক কমাতে হবে কেন্দ্রকে। কিন্তু তাতেও বিশেষ কিছু লাভ হবে না, তা করের হিসেবেই স্পষ্ট। 
এখন প্রতি লিটার পেট্রোলের দামের উপর করের পরিমাণ ৩২.‌৯ টাকা, যার মধ্যে ১.‌৪ টাকা শুল্ক, আর বাকি ৩১.‌৫ টাকা সেস। ডিজেলের ক্ষেত্রে হিসেবটাও প্রায় একইরকম। বিগত কয়েক বছরে কেন্দ্রের মধ্যে প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পেট্রোপণ্যের দামের উপর শুল্ক কমিয়ে একের পর এক সেস চাপিয়ে দিতে দেখা গেছে কেন্দ্রকে। এতে পেট্রোপণ্যের উপর শুল্ক চাপিয়ে তুলে আনা অর্থের যে অংশ রাজ্যের পাওয়ার কথা, তা দিনে দিনে কমেছে। কিন্তু কেন্দ্রের ভাঁড়ারে অর্থ আমদানি বেড়েছে, কারণ সেস চাপিয়ে তুলে আনা অর্থ রাজ্যকে দিতে হয় না।
সরকারি সূত্রে দাবি, খোলাবাজারে পেট্রোল, ডিজেলের বিক্রির উপর শুল্ক চাপিয়ে চলতি অর্থ বর্ষে মোটামুটি ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার কোটি টাকা তুলে আনতে চায় কেন্দ্র। আর তার জন্য পেট্রোলের উপর সব মিলিয়ে ১৮০ শতাংশ এবং ডিজেলের উপর ১৪০ শতাংশ কর দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। হিসেব মতো কর বাবদ উঠে আসা অর্থের ৪১% রাজ্যের পাওয়ার কথা। কিন্তু শুল্ক কমিয়ে তার মধ্যে সেস ঢুকিয়ে দেওয়া রাজ্যের ভাগের অর্থের পরিমাণ ক্রমশ কমছে। হিসেব বলছে, পেট্রোলের উপর কর বসিয়ে যে অর্থ তুলে আনা হয়, তার ৯৬% নিজের পকেটে রাখে কেন্দ্র। চলতি অর্থ বর্ষে যদি ওই ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার কোটি টাকা তুলে আনা যায়, সেক্ষেত্রে রাজ্য পাবে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা। 

জনপ্রিয়

Back To Top