আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মোদির পথে হেঁটে চিকিৎসা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হতে চাইছে মার্কিন মুলুকও। দেশে ওষুধের উৎপাদন বাড়াতে চেয়ে ‘‌‌বাই আমেরিকান’‌ প্রশাসনিক নির্দেশে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ যাতে শুধুমাত্র আমেরিকান সংস্থার থেকেই ওষুধ কেনা হয়!‌ কূটনৈতিক মহলের দাবি, চীনকে জব্দ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প। কিন্তু আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভারতও!‌ কারণ ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির কাছে সবচেয়ে বড় বাজার আমেরিকা। ২০১৯–২০ সালে আমেরিকায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করেছিল ভারত। মার্চ–এপ্রিলের লকডাউনেও প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করেছে ভারত। যদিও ট্রাম্পের টার্গেট মূলত চীনই, এই ভেবে খুব একটা আশঙ্কিত হচ্ছেন না ভারতীয় কূটনৈতিক মহল। তাঁদের একাংশের দাবি, মূলত অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস (এপিআই‌)‌–এর আমদানি রুখতেই এই পদক্ষেপ করছে আমেরিকা। এই এপিআই বা ওষুধ তৈরির কাঁচামাল মূলত তৈরি করে চীনই। ভারতও প্রায় ৭০% এপিআই চীন থেকেই আমদানি করে। সম্প্রতি ভারতও দেশেই ওষুধের কাঁচামাল তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়াও, এখনই কম দামে ওষুধ তৈরি করতে পারবে না আমেরিকা। ফলত ওষুধের দাম যাতে হঠাৎ বেড়ে না যায়, সেই বিষয়টা মাথায় রেখে আমদানি চালিয়েই যেতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। 
যদিও কোন ধরনের ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীর ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করা হবে, সেবিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের এই নির্দেশ দীর্ঘমেয়াদের কথা মাথায় রেখে। তাই ভবিষ্যতে মার্কিন মুলুকে জেনেরিক ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে ভারতের, মনে করছে কূটনীতিকদের একাংশ। হোয়াইট হাউসের ট্রেড অ্যাডভাইজর পিটার নাভারো বলেছেন, ‘‘জীবনদায়ী ওষুধ–সহ মাস্ক, গ্লাভস, গগলস, ভেন্টিইলেটরের মতো চিকিৎসা সামগ্রীর জন্য আমরা ভয়ঙ্কর ভাবে অতিরিক্ত বিদেশ নির্ভরশীল।’‌ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ক্ষেত্রে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীলতা শূন্যে নামিয়ে আনবে আমেরিকা।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই যদি ওষুধের কাঁচামাল তৈরি হতে শুরু করে, তাতে ভারতেও বড় লাভ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের দাবি, সেক্ষেত্রেও ভারতের পক্ষেও চীন নির্ভরতা দ্রুত কাটাতে সুবিধে হবে। এতে ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্ত হবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top