আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ২৫ বছর আগের খারাপ স্মৃতি ফের উস্কে দিতে চলেছে ২০২০ সাল। ১৯৯৫ সালের পর চলতি বছরে ভারতে সোনার চাহিদা সর্বনিম্ন মাত্রা ছুঁতে চলেছে। এমনটাই জানিয়েছেন এদেশে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সোমাসুন্দরম পিআর। 
এক ওয়েবিনারে সোমাসুন্দরম বলেন, ‘‌চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভারতে ২৫২ টন সোনার চাহিদা দেখা গিয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা ৪৯৬ টন ছিল। অর্থাৎ সোনার চাহিদা প্রায় ৪৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই ধারা অব্যাহত থাকলে এবছর সোনার চাহিদা ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন মাত্রায় পৌঁছাবে। গত বছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর পর্বে ১৯৪ টন চাহিদা ছিল। এবছর অক্টোবর–ডিসেম্বরে একই চাহিদা থাকলেও সার্বিকভাবে তা ৪৪৬ টন হবে, যা গত বছরের ৬৯৬ টনের তুলনায় অনেক কম।’‌
তাঁর কথায়, ‘‌সোনার চাহিদার নিরিখে ২০২০ অত্যন্ত খারাপ বছর। তবে, অক্টোবর–ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ফের শুরু হচ্ছে। তবে বেকারত্ব এবং বেতন হ্রাসের প্রেক্ষিতে বিয়ের মরসুমে চাহিদা কতটা বাড়বে বা কী আকার নেবে সে বিষয়ে আমাদের কোনও ধারণা নেই। তবে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দর ৫০ হাজার টাকার নীচে নামলে ক্রেতা পাওয়া যেতে পারে।’‌ 
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবছর গোটা বিশ্বে সোনার চাহিদা ১০ শতাংশ কমেছে বলে তাদের গোল্ড ডিমান্ড ট্রেন্ডস রিপোর্টে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল।
বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দর ৫১ হাজারের আশেপাশে চলছে। বৃহস্পতিবারই দিল্লিতে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দর ৫০, ৬৩০ টাকায় নামে। যার ফলে দিওয়ালিতে নতুন করে আশা জাগছে। ধনতেরসের দিকে তাকিয়ে সোনা ব্যবসায়ীরা।
এটা ঘটনা করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ আটকাতে ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইওরোপীয় দেশগুলি ফের লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রকোপ আরও গভীর হবে বলে নতুন করে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। জুন মাসেই বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল লকডাউন জারি হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ৫.‌২ শতাংশ শঙ্কুচিত হতে পারে। 
এই পরিস্থিতিতে সোনায় বিনিয়োগ করার আগে ভাবনাচিন্তা করছেন লগ্নিকারীরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top