আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি, ২৯ মে- এমনিতেই ছিল টলোমলো দশা। মোদির দ্বিতীয় দফার প্রথম বছরটিতে একটু একটু করে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়াচ্ছিল ভারতের অর্থনীতি। করোনা আর তার পিছু পিছু লকডাউন এসে এক ধাক্কায় খাদেই ফেলে দিল অর্থনীতিকে। সরকারি তথ্যেই শুক্রবার ছবিটি পরিষ্কার। 
এদিন সরকারি হিসেবে জানানো হয়েছে, গত জানুয়ারি–‌মার্চ ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৩.‌১ শতাংশ। এর ফলে ২০১৯–‌২০ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার দাঁড়াল ৪.‌২ শতাংশ। ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতিতে গত অর্থবর্ষের জন্য আর্থিক ঘাটতির যে হার ধরা হয়েছিল, তা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। ৩.‌৩ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৩.‌৮ শতাংশ। করোনার ধাক্কা এসে লাগে মার্চ মাসে। মার্চের শেষ দিকে শুরু হয় লকডাউন। নড়বড়ে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে। নতুন অর্থবর্ষের প্রথম মাস এপ্রিলের তথ্যে বেরিয়ে এসেছে সেই ছবিও। বৃদ্ধির তো প্রশ্নই নেই, মূল ৮টি পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সঙ্কোচন ঘটেছে ভয়াবহ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিল মাসে এই ক্ষেত্রগুলিতে বৃদ্ধির হার মাইনাস (‌–)‌ ৩৮.‌১ শতাংশ!‌ এ এক ভয়ঙ্কর রেকর্ড। তবে এর পূর্বাভাস ছিল আগের মাসেই। মার্চে অঙ্কটা ছিল মাইনাস (‌–‌‌)‌ ৯ শতাংশ। আর, ২০১৯–‌২০ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার যে কমছে, সেটাও ভালভাবেই ধরা পড়ছিল আগের ত্রৈমাসিকগুলির হিসেবে। ২০১৯–‌২০ অর্থবর্ষের বৃদ্ধি কোন দিকে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত ছিলই। অক্টোবর–‌ডিসেম্বরের বৃদ্ধি ৪.‌৭ শতাংশ বলে জানানো হয়েছিল। এদিন জানানো হয়, সেটাও সংশোধনের পর ৪.‌১ শতাংশে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে, মার্চে শেষ হওয়া গত অর্থবর্ষের বৃদ্ধির শ্লথতার সঙ্গে করোনার সম্পর্ক বিশেষ নেই। কিন্তু করোনা দেশে পৌঁছে যাওয়ার পর অর্থনীতির দুর্দশায় সেটাই হয়ে উঠেছে সরকারের ঢাল বা সাফাই। 
সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা এনএসও–‌র তথ্য বলছে, কর্মনাশা লকডাউনের জেরে এপ্রিলে পরিকাঠামো ক্ষেত্রগুলির মধ্যে কয়লাক্ষেত্রে উৎপাদন কমেছে ১৫.‌৫ শতাংশ, সিমেন্টে ৮৬ শতাংশ, ইস্পাতে ৮৩.‌৯ শতাংশ, সারে ৪.‌৫ শতাংশ, অশোধিত তেলে ৬.‌৪ শতাংশ, প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে ১৯.‌৯ শতাংশ। মে মাসেও অবস্থার উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না। লকডাউনের পর কিছুটা উন্নতি নিশ্চয়ই হবে, কিন্তু কতটা?‌ চলছে হিসেবনিকেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থার বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসে যে ছবি বেরিয়ে আসছে, তা ভয়ের। অর্থনীতির সঙ্কোচন হবে ৫ শতাংশ। ফিচ রেটিংস, ক্রিসিল–‌এর পর এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল রেটিংস–‌ও একই কথা জানাল।
 

জনপ্রিয়

Back To Top