আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিপাকে দেশের অন্যতম দুই বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়া। ২০০৫ সাল থেকে চলে আসা মামলায় টেলিকম সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে কেন্দ্রকে মোট ৯২,৬৪১ কোটি টাকা দেবে টেলিকম সংস্থাগুলি। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এমনিতেই জিও–র ধাক্কায় কিছুটা নিম্নমুখী অন্যান্য টেলিকম সংস্থার ব্যবসা। সেই পরিস্থিতিতে এতটাকার দেনা শোধ করতে হলে স্বভাবতই চাপে পড়বে সংস্থাগুলো।
কিন্তু কেন এত টাকার দেনা?‌ জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সালে লাগু হওয়া টেলিকম নীতি অনুযায়ী, টেলিকম সংস্থাগুলিকে মোট আয়ের কত শতাংশ লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ বাবদ কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হবে তা নির্ধারণের জন্য কেন্দ্রীয় টেলিকম দপ্তর সংস্থাগুলির ‘অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভেনিউ’ বা এজিআর–এর যে সংজ্ঞা ঠিক করে দিয়েছিল তা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৫ সালে মামলা করে টেলিকম সংস্থাগুলির সংগঠন সেলুলার অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া বা সিওএআই। ১৪ বছরের পুরোনো সেই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ টেলিকম সংস্থাগুলির আবেদনকে ‘অসার’ বলে খারিজ করে দিয়েছে। ফলে টেলিকম দপ্তরের সংজ্ঞাই বৈধ বলে মান্যতা পেয়েছে। 
এর ফলে, কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকম সংস্থাগুলির কাছে সুদ ও জরিমানা–সহ মোট ৯২,৬৪১ কোটি টাকা পায়। এর মধ্যে লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ইউসেজ চার্জ বাবদ মূল দেনা ২৩,১৮৯ কোটি টাকা। তার সুদ ৪১,৬৫০ কোটি টাকা। এছাড়া জরিমানা ১০,৯২৩ কোটি টাকা এবং জরিমানার উপর সুদ ১৬,৮৭৮ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এদিনের রায় এয়ারটেল ও ভোডাফোন–আইডিয়ার কাছে মৃত্যুদণ্ডের সামিল। কেননা, এয়ারটেলকে ২১,৬৮২ কোটি টাকা এবং ভোডাফোন–আইডিয়াকে ২৮,৩০৮ কোটি টাকা দিতে হবে সরকারকে। সেই তুলনায় মাত্র তিন বছর আগে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার কারণে রিলায়েন্স জিওকে দিতে হবে মাত্র ১৩ কোটি টাকা! তবে জরিমানা বাবদ প্রাপ্ত টাকা দুই রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল এবং এমটিএনএলকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করতেই পারে কেন্দ্রীয় সরকার।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top