আজকালের প্রতিবেদন: পরপর ৩ বছর লাভ। তার পরেও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনে নামবে কর্মী সংগঠনগুলি। কর্মী থেকে আধিকারিক, সকলেই ক্ষুব্ধ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে। মঙ্গলবার বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংস্থার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের অফিসের সামনে একযোগে বিক্ষোভ দেখায় শ্রমিক সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, লাভজনক এই সংস্থাটির বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত তারা কোনওমতেই মেনে নেবে না। এদিন কর্মীদের দাবি নিয়ে পরিচালন সমিতির সঙ্গে একটি বৈঠকে বসে শ্রমিক সংগঠনগুলি। ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ–সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা।
দেশের এই প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে এবং এই সংস্থাই প্রথম দেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি করা শুরু করে। এই মুহূর্তে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি না হলেও বাজারে সংস্থার তৈরি ন্যাপথালিন, ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার এবং প্রসাধনী তেলের কদর যথেষ্ট। সংস্থাটি রসায়ন ও সার মন্ত্রকের অধীন। তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান এবং অরুণাচল প্রদেশের রাজ্য সরকার এই সংস্থার তৈরি উৎপাদিত পণ্য প্রতি বছর কেনে। মূল কারখানা পানিহাটি ও মানিকতলায় হলেও মুম্বই এবং কানপুরেও সংস্থার কারখানা আছে। অফিসার ও কর্মী মিলিয়ে সংস্থার স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ২০০। চুক্তিভিত্তিক কর্মী আছেন ৫০০ জন। মোট সম্পত্তি ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রতি সরকারি ঋণের শেষ কিস্তি ৪ কোটি টাকাও শোধ করে এই সংস্থা।
ক্ষতি থেকে ঘুরে দঁাড়িয়ে ২০১৬ সাল থেকে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস। সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬–১৭ আর্থিক বর্ষে লাভ হয় ৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা। ২০১৭–১৮ আর্থিক বর্ষে ১০ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা এবং ২০১৮–১৯ সালে লাভ হয় ২৫ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা।
এর আগে যখন বিলগ্নীকরণের প্রস্তাব তোলা হয়, তখন থেকেই প্রতিবাদে শামিল হতে শুরু করেন কর্মীরা। প্রতিষ্ঠাতা প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে ২ আগস্ট শ্রমিকরা সভা করেন। যেখানে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ছাড়া বিজ্ঞান কলেজের পড়ুয়ারাও যোগ দিয়ে বিষয়টির সমালোচনা করেন।
এদিন আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত বেঙ্গল কেমিক্যালস মজদুর ইউনিয়নের সহ–সভাপতি মৃণালকান্তি মজুমদার বলেন, ২০১৭–তে সংস্থার সম্পত্তি বিক্রি বা কৌশলগত বিক্রির যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে শ্রমিক ইউনিয়নগুলি মামলা করে। আদালত এই সিদ্ধান্ত খারিজ করে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ফের আদালতে আবেদন করা হয়। বিষয়টি এখন বিচারাধীন। তার পরেও দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্র সরকার ফের এই সংস্থা বিক্রির জন্য এগোচ্ছে। যা কোনওভাবেই শ্রমিক কর্মচারীরা মেনে নেবেন না।
সিটু অনুমোদিত বেঙ্গল কেমিক্যালস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ–সভাপতি কানাই ব্যানার্জি জানিয়েছেন, আইনগত লড়াই ছাড়াও রাস্তায় নেমে একযোগে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন তঁারা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top