আজকালের প্রতিবেদন,দিল্লি: বেহিসাবি ঋণ মঞ্জুরের কারণে ২০১৭–১৮ ‌আর্থিক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি হারিয়েছে ৮ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এদেশের ব্যাঙ্কিং ইতিহাসে এক বছরে এত বেশি টাকা হারানোর ঘটনা নজিরবিহীন। নীরব মোদির কাণ্ডকারখানা সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের চাপে পড়ে সমস্ত ব্যাঙ্ককে এখন নিজেদের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ স্পষ্ট করতে হচ্ছে। আর সেই ধুলো ঝাড়তে গিয়েই সামনে এসেছে এই বিপুল পরিমাণ টাকার কথা। গত আর্থিক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৭৯ হাজার কোটি টাকা। লাভ করেছে শুধু ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক ও বিজয়া ব্যাঙ্ক। বাকি ১৮টি ব্যাঙ্কে শুধুই ক্ষতি। তালিকায় শীর্ষে পিএনবি। তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১২,২৮২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৮,২৩৭ কোটি ৯০ লক্ষ। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া‌র ৬,৫৪৭ কোটি ৫০ লক্ষ। এই সময়েই বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি কিন্তু লাভ (‌৪২ হাজার কোটি)‌ করেছে। এদিকে, পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সম্পদের তুলনায় অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই ব্যাঙ্কগুলি হল আইডিবিআই, ইউকো ব্যাঙ্ক, ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক, দেনা ব্যাঙ্ক ও সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। কেন্দ্র করদাতাদের টাকায় ব্যাঙ্কগুলির স্বাস্থ্য ভাল করতে গত বছরে তাদের ৯০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। চলতি বছরে আরও ১ লক্ষ ২১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। গত আর্থিক বছরে ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৮.‌৬ লক্ষ কোটি টাকা দাঁড়ানোর তাৎপর্য কী, তা একটি তথ্য থেকেই স্পষ্ট। ওই বছরে কেন্দ্রের বাজেট ছিল ২৪.‌৪ লক্ষ কোটি টাকার। কংগ্রেস কাঠগড়ায় তুলছে বিজেপি–‌কে। বিজেপি বলছে, এই সব ঋণই মনমোহন সিং সরকারের আমলে দেওয়া। কিন্তু এর ফলে অর্থনীতির এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ওপর যে ভয়ঙ্কর চাপ পড়ছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। সম্প্রতি অবস্থা সামাল দিতে কেন্দ্র অনাদায়ী ঋণ সংক্রান্ত আইন কড়া করেছে। তবে অনেকেরই ধারণা, এই অনাদায়ী ঋণের অর্ধেকের বেশি সম্ভবত উদ্ধার করা যাবে না। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top