আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রের মধ্যে থাকা আকচাআকচি প্রকাশ্যে চলে আসায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকার। ব্যাঙ্ক পরিচালনার ব্যাপারে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে দু’‌পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে বলে দাবি বিভিন্ন পক্ষের। কর্মী সংগঠনকে পাশে পেয়েছে ব্যাঙ্ক। সংগঠন এই ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই বয়ানই নরেন্দ্র মোদি সরকারের ক্ষুব্ধ হওয়ার মূল কারণ। সরকারি কর্তাদের মনে হচ্ছে এতে ব্যাঙ্কের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সচিবালয়ের কাছে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন। এমন কাজ সরকার প্রত্যাশা করেনি বলে তাঁর দাবি। আরবিআইয়ের ডেপুটি গভর্নর ভাইরাল আচার্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এমনকী মুম্বইয়ের এক সভায় ভাইরাল বুঝিয়ে দেন তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন আরবিআইয়ের গভর্নর। এই ঘটনার পর পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকে মুখোমুখি বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। কেন্দ্রের সঙ্গে আরবিআইয়ের যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে তা থামাতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে অনাদায়ী ঋণের জন্য যাতে ব্যাঙ্কের সমস্যা না হয় তাও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।     
গত সোমবার ব্যাঙ্কের কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের উচিত আরবিআইয়ের প্রধানের সঙ্গে  কথা বলে সমস্যার সমাধান করা। অন্যদিকে কেন্দ্র চায় ঋণনীতিতে ব্যাঙ্কগুলিকে ছাড় দেওয়া হোক। কিন্তু সেটা  মানতে নারাজ আরবিআই। সুদের হারই দু’‌পক্ষের মধ্যে গোলমালের কারণ। সুদের হার বাড়ানো নিয়ে আরবিআইয়ের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সরকার।           
আবার ইন্ডিপেন্ডেন্ট পেমেন্টস রেগুলেটরি বোর্ড সংক্রান্ত ব্যাপারেও দ্বিমত আছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বর্তমান গভর্নরের মেয়াদ শেষ হবে। রঘুরাম রাজন দ্বিতীয় বার পদে বসতে রাজি হননি। আরবিআইয়ের সঙ্গে  কেন্দ্রের যখন সংঘাত হচ্ছে সে সময় দেশের আর এক সাংবিধানিক সংস্থা সিবিআইতেও মাথাচাড়া দিয়েছে বিবাদ।    
নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সোমবার টুইটারে লিখেছেন মিস্টার ৫৬ থেকে আরবিআইকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে এটা ভাল লক্ষণ। 

জনপ্রিয়

Back To Top