আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আশঙ্কা ছিলই। এবার সেটাই সত্যিই হল। করোনার জেরে লকডাউনে মুখ থুবড়ে পড়ল দেশের অর্থনীতি। মে মাসে আটটি মূল পরিকাঠামো ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি কমে গেছে। একটু আধটু নয়। সঙ্কোচনের হার ২৩.‌৪ শতাংশ। বলছে বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রকের পরিসংখ্যান। এপ্রিল–মে মিলিয়ে সঙ্কোচনের হার ৩০ শতাংশ। ঋণ বৃদ্ধির হারও নেমেছে ৭ শতাংশে।  
এই আটটি পরিকাঠামো ক্ষেত্র হল কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত পণ্য, ইস্পাত, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, সার। শুধু কয়লাতেই সঙ্কোচনের হার ১৪ শতাংশ। সবথেকে বেশি ইস্পাতে। সেখানে সঙ্কোচনের হার ৪৮.‌৪ শতাংশ। 
মার্চের শেষেই করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন জারি হয় দেশে। ঝাঁপ বন্ধ হয় কল–কারখানা, অফিসে। তার আগে গত দেড় বছর ধরেই আর্থিক মন্দা চলছিল। এই অবস্থায় লকডাউন বিপদ আরও বাড়িয়েছে। ৩০ জুন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেল, চলতি অর্থবর্ষের শুরুর দু’মাসে রাজকোষ ঘাটতি পৌঁছেছে সারা বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৫৮.৬ শতাংশে। লকডাউনের কারণে কর আদায় কমেছে কেন্দ্রের। তাছাড়া করোনা মোকাবিলা করতে খরচও হয়েছে বেশি। বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সেই কারণে এপ্রিলের মতোই মে মাসে প্রধান আটটি পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উৎপাদন কমেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল–মে মাসে রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণ ৪.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। যেখানে গোটা অর্থবর্ষে তা হওয়ার কথা ৭.৯৬ লক্ষ কোটি (জিডিপি–র ৩.৫ শতাংশ হিসেবে)। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লকডাউনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। অর্থনৈতিক মন্দা বহু আগে থেকেই চলছিল। কেন্দ্র সেভাবে কোনও পদক্ষেপই করেনি। এপ্রিল–মে মাসে সরকারের ব্যয়ের অঙ্ক হয়েছে বাজেট অনুমানের ১৬.৮ শতাংশ। এক বছর আগে তা ছিল ১৮.৪ শতাংশ। 

জনপ্রিয়

Back To Top