অলোকপর্ণা
আজ সকলের মনখারাপ, অনেক দিনের খেলা সাঙ্গ করে চলে গেল আমার সই, আমার মায়ের সই।
মনে পড়ে, কলেজ জীবনে প্রেম করতে গিয়ে কোলকাতার এলোমেলো রাস্তা চষতে চষতে আমরা ‘‌ভালোবাসা’‌ আবিষ্কার করে ফেলেছিলাম। হ্যাঁ, আবিষ্কারই। হলুদ রঙের বোর্ডটা থমকে দিয়েছিল আমাদের। কলম্বাসের মতো উপরে তাকিয়ে ভেবেছিলাম, ‘‌তবে কি ওটাই ভালোবাসার বারান্দা?’‌ ভেবেছিলাম আপনি কি এখন ‘‌ভালোবাসা’‌য় আছেন? ভিতরে যাওয়ার সাহস হয়নি। ‘‌ভালোবাসা’‌র ঠিক বাইরে থেকে আমরা ফিরে এসেছিলাম। এরপর যখনই পড়েছি আপনাকে, মনে হয়েছে ‘‌ভালোবাসা’‌র সেই বারান্দায় বসে চায়ের কাপ হাতে কথা হচ্ছে আমাদের। 
সেই কবে থেকে আপনি সহজ হতে শিখিয়েছেন। আপনার মাথা শহরের সবচেয়ে উঁচু বাড়িটা ছাড়িয়ে উঠে গেলেও আপনি নিজে ছিলেন জল, হাওয়া, মেঘ, বৃষ্টির মতো সহজটি। যেন আপনাকে মনের সব গোপনকথা বলে দেওয়া যায়। এমনই সই ছিলেন আপনি। আজও আপনার চোখ ধার করলে যা দেখতে পাই, কবির ভাষায় তাকে বলা চলে- “যতদূর জ্যোৎস্না পড়ে, সবাই সবার আত্মীয়...”, গাছের দিকে, পাখির দিকে, বইয়ের পাতার দিকে আদর চোখে চাইতে শিখি। অবলীলায়, শুধুমাত্র শব্দে শব্দে আপনি সকলের আত্মীয় হয়ে গেছেন। ‘‌সই’‌ হয়ে উঠেছেন। 

 

আপনার অসুস্থতার কথা আগে থেকেই জানতাম। এবং এটাও বুঝেছিলাম যে আপনার সাথে আমার কখনো দেখা হবে না। তবে সত্যিই কি আমাদের দেখা হয়নি? ভালোবাসার বারান্দায় বসে আমরা দুজনে কি একসাথে চায়ের কাপ হাতে আড্ডা দিইনি কোনোদিন? দিয়েছি তো, প্রতি রবিবারেই দিয়েছি। কখনো চিনদেশ ঘুরতে ঘুরতে, কখনো কুম্ভমেলায় গঙ্গায় দামী শাড়ি পরে ডুব দিতে দিতে, আড্ডা তো হয়েইছে আমাদের, তাই না?
 
অনবরত ফোন আর মেসেজ আসছে, ‘‌মনখারাপ’‌ শব্দটা ছেয়ে ফেলেছে ফেসবুকের পাতাও। আজ আমাদের, পাঠকমাত্রের আত্মীয়বিয়োগ হল। আজ আমাদের মনখারাপ নবনীতাদি।
 

জনপ্রিয়

Back To Top