সমীরকুমার ঘোষ:ভগিনী নিবেদিতার জন্ম সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে সূত্রধর প্রকাশনা বেশ কিছু পুস্তিকা প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে উল্লেখ্য ‘‌নিবেদিতাচর্চা গ্রন্থমালা’‌। এই পর্বে ইতিমধ্যেই ছটি পুস্তিকা প্রকাশিত। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ৭ থেকে ১১। এর মধ্যে আছে কুমুদবন্ধু সেনের ‘‌নিবেদিতা’,‌ নলিনীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের ‘‌অচিনমাত্রিক নিবেদিতা’‌,‌ তড়িৎকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌ভগিনী নিবেদিতা ও শৈলশহর দার্জিলিং’,‌ স্বামী স্মরণানন্দের ‘‌নিবেদিতার অভিজ্ঞতায় ভারতোপলব্ধি’ ও রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্তের ‘‌ভগিনী নিবেদিতার ভারত–‌চেতনা’‌। প্রতিটি বই–‌ই মূল্যবান। নিবেদিতাকে ধরা হয়েছে বিভিন্ন প্রেক্ষিতে। এই পর্বের বাইরে দেবাঞ্জন সেনগুপ্তের ‘‌ভারতবর্ষে 
নিবেদিতা’‌ নামে আরে‌‌কটি বই প্রকাশিত হয়েছে। নিবেদিতার অনুষঙ্গেই বেরিয়েছে শ্যামল চক্রবর্তীর ‘‌শতবর্ষে বসুবিজ্ঞান মন্দির’।‌
রামকৃষ্ণের অন্যতম ত্যাগী পার্ষদ কুমুদবন্ধু আলমবাজারের মঠ থেকেই সন্ন্যাসীদের সান্নিধ্যধন্য। ভারত হিতৈষণার চিরায়ত মূর্তি নিবেদিতাকে তিনি দুটি প্রবন্ধে ধরতে চেয়েছেন। বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক–‌গবেষক নলিনীরঞ্জন ‘‌অচিনমাত্রিক নিবেদিতা’‌ অন্য এক নিবেদিতাকে উপস্থাপিত করেছেন, যিনি নাট্যমোদী। গিরিশ ঘোষকে যিনি প্রাণিত করছেন। বাগবাজারে নিজের তৈরি স্কুলে গ্রীষ্ম আর পুজোর ছুটি পড়লে নিবেদিতা চলে যেতেন দার্জিলিঙে। এই শৈলশহরের সঙ্গেও তাই তাঁর আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল। তারই কথা তুলে ধরেছেন তড়িৎকুমার ‌তাঁর ‘‌ভগিনী নিবেদিতা ও শৈলশহর দার্জিলিং’‌–‌এ।
‘‌নিবেদিতার অভিজ্ঞতায় ভারতোপলব্ধি’‌র কথা জানিয়েছেন স্বামী স্মর ণানন্দ। একদিকে ঔপনিষদিক মর্মকথা ও অন্যদিকে বাস্তবের চলনপথে জাতীয়তা নির্মিতির জোরালো তত্ত্ব–‌সংযোগ— এর মধ্যেই নিবেদিতা ভারতকে চিনতে চেয়েছিলেন। সেই উপলব্ধির কথাই বইটিতে সুন্দরভাবে বিধৃত। এই পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্তের ‘‌ভগিনী নিবেদিতার ভারত–‌চেতনা’‌। এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার শেষে লেখক যে সখেদ মন্তব্য করেছেন তা সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য— ‘‌নিবেদিতার মূর্তি বসাইয়া ভোট পাইবার আশা নাই। আর নিবেদিতা যে বৈরাগ্যের আদর্শ প্রচার করিয়াছেন তাহা কোনো ভোট–‌ভিখারির আদর্শ হইতে পারে না। নিবেদিতার ভারত–‌চেতনা হইতে আমরা অনেক দূরে সরিয়া আসিয়াছি।’‌ তবে লেখক আশাবাদীও। লিখেছেন, ‘‌সারদা–‌মঠ সেই চেতনাকে অথবা (‌চেতনার প্রতীক)‌ এক (‌সুন্দর)‌ প্রতীক (‌রূপে গ্রহণ করিয়াছে)‌। ভারতীয় আদর্শের যে দীপ এখানে জ্বলিতেছে তাহার আলোক যখন ক্রমে চারিদিকে বিকীর্ণ হইবে তখন নিবেদিতার এই ভারত–‌চেতনা ভারতবাসীকে তাহার জাতীয় আদর্শে প্রবুব্ধ করিবে।’‌ ভারতবর্ষে পদার্পণ, আনাগত ভারতের যে মহামানব, শেকড়ের সন্ধান, মুক্তি আন্দোলন, আওয়ার পিপল ও ভারতীয় নিবেদিতা— এইভাবে ‘‌ভারতবর্ষে নিবেদিতা’‌কে ধরতে চেয়েছেন দেবাঞ্জন সেনগুপ্ত। খুবই তথ্যবহুল লেখা। 

জনপ্রিয়

Back To Top